বাউফলে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩; আটক ৪
Date: 2026-06-03
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ০৩, ২০২৬, ৫:০৪ এ.এম
বাউফলে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩; আটক ৪
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট এলাকার পূর্ব পাশে রবীন্দ্র হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন রবীন্দ্র হাওলাদার (৫৫)। আহতরা হলেন তার স্ত্রী ঠাকুরানী হাওলাদার (৪৫) এবং দুই ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৫) ও রনি হাওলাদার (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয় নিয়ে রবীন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী রতন ব্যাপারীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। একদিন আগে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে বিরোধের জেরে রতন ব্যাপারী ও তার সহযোগীরা রবীন্দ্র হাওলাদারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় লোহার পাইপ ও সাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিভূতি সরকার জানান, হঠাৎ করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে রবীন্দ্র হাওলাদারের মাথায় লোহার সাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম জানান, উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। নিহত রবীন্দ্র হাওলাদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। আহত হৃদয়, রনি ও ঠাকুরানী হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসা অভিযুক্ত আনন্দ ব্যাপারী (৫৫), কুসুম রানী (৪৫), প্রদ্বীপ ব্যাপারী (২৭) ও রতন ব্যাপারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা পলাতক থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more