প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ০১, ২০২৬, ২:১৬ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধ:
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর নির্ধারিত প্রদর্শনী
স্থগিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা
জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে
সংগঠনগুলোর নেতারা এ ঘটনার প্রতিবাদ
জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ মে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাতা তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর একটি বিশেষ
প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতিও নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটি নিয়ে ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে প্রচারণা চালালে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রদর্শনীটি স্থগিত হয়ে যায়। একই দিনে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি প্রদর্শনীও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই আয়োজন বন্ধ
করা হয়েছে। প্রতিবাদী সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক চর্চা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির জন্য
পরিচিত। ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ ও কবি আল
মাহমুদের মতো গুণীজনের স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় সরকার
অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন-২০২৩ অনুযায়ী প্রদর্শনের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলে এটি প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূর ব্রাহ্মণবাড়িয়ারই সন্তান হওয়ায় নিজ জেলায় তাঁর চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বাধা সৃষ্টি হওয়া আরও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তারা। সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, চলচ্চিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম, যা সমাজ, সংস্কৃতি,
রাষ্ট্র ও মানবিক মূল্যবোধকে
মানুষের সামনে তুলে ধরে। তাই অসহনশীলতা, উগ্রতা কিংবা অগণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাঘর, উদীচী, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আবরণী, কবির কলম, চারণ, সোনালি সকাল ও আজকের সংস্কৃতি
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more