পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ফেসবুকে জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম,
অভিমান ও না বলা কষ্টের কথা লিখে বিদায়বার্তা দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পটুয়াখালীর
দশমিনা উপজেলার তরুণ সাংবাদিক রাকিব হোসেন (৩৫)। কৃষিপণ্যে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত
অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড সেবনের পর রোববার (৩১ মে) ভোরে তার মৃত্যু হয়। রাকিব হোসেন দৈনিক যায়যায়দিন
পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দশমিনা বাজারে
একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয়দের
মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,
গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোক্তার হোসেনের মেজো
ছেলে রাকিব শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। ২০০১ সালে মায়ের মৃত্যুর
পর তিনি ও তার ছোট বোন নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই তার লেখাপড়া ও কর্মজীবনের সূচনা। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে
নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাকিব জীবনের নানা সংগ্রাম, পারিবারিক অবহেলা
এবং প্রিয়জনদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুর পর মায়ের কবরের
পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি তার ছোট বোনের কাছে ব্যবসায়িক ও
আর্থিক বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং ব্যবসায়িক অংশীদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
শনিবার গভীর রাতে তিনি বিষাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে অসুস্থ
হয়ে পড়লে তার বোন ও বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে
যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার
পথে রোববার সকাল ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস
বলেন, “মা মারা যাওয়ার পর আমরা নানার বাড়িতে বড় হয়েছি। ভাই সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ধরে রাখা
গেল না।” রোববার দশমিনা মডেল সরকারি
মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী,
ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে তার
শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গলাচিপায় মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাহুল বিন হালিম বলেন, অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত
রাসায়নিক পদার্থ। এর কার্যকর কোনো প্রতিষেধক নেই এবং সামান্য পরিমাণ সেবনও প্রাণঘাতী
হতে পারে। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, বিষাক্ত পদার্থ সেবনের ঘটনায় মৃত্যুর খবর
পুলিশ পেয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
অনুযায়ী মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more