নিজস্ব ডকুমেন্টারি:
বিশ্বজুড়ে মানবসেবার প্রতীক হিসেবে পরিচিত মাদার তেরেসা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটি বহু
মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের
পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং পরবর্তীতে ক্যাথলিক চার্চ তাঁকে সন্তের মর্যাদাও দেয়। তবে তাঁর কাজ ও সংগঠনকে ঘিরে
গত কয়েক দশকে নানা সমালোচনা ও বিতর্কও সামনে
এসেছে।
সমালোচকদের একটি বড় অভিযোগ ছিল,
মিশনারিজ অব চ্যারিটির কিছু
সেবাকেন্দ্রে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি ছিল। বিভিন্ন গবেষক ও পর্যবেক্ষক দাবি
করেন, সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ব্যথানাশক ও স্বাস্থ্যবিধির অভাব
দেখা যেত। তাঁদের মতে, রোগীদের কষ্টকে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার প্রবণতা কখনও কখনও উন্নত চিকিৎসা প্রদানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত।
মাদার তেরেসার অন্যতম সমালোচক ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক ক্রিস্টোফার
হিচেন্স। তিনি তথ্যচিত্র ও বইয়ের মাধ্যমে
অভিযোগ করেন যে, মিশনারিজ অব চ্যারিটি দারিদ্র্য
দূর করার চেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের সেবাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর মতে, সংগঠনটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের
বদলে ধর্মীয় আদর্শ প্রচারে বেশি মনোযোগী ছিল।
সংগঠনের অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। সমালোচকরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার
কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের অনুদান কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত
স্বচ্ছতা ছিল না বলেও অভিযোগ
তোলা হয়। যদিও সংগঠনটি এসব অভিযোগের অনেকগুলোর সঙ্গে একমত নয়।
আরেকটি বিতর্কের বিষয় ছিল ধর্মান্তকরণের অভিযোগ। কিছু সমালোচক দাবি করেন, মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের আচার পালনের ঘটনা ঘটত। তবে সমর্থকদের বক্তব্য, সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবসেবা এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগ প্রমাণিত নয়।
এদিকে ২০১৮ সালে ভারতের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে শিশু বিক্রির অভিযোগ সামনে এলে মিশনারিজ অব চ্যারিটি নতুন
করে সমালোচনার মুখে পড়ে। ঘটনাটি মাদার তেরেসার মৃত্যুর বহু বছর পরে ঘটলেও সংগঠনের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে
প্রশ্ন ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদার তেরেসার উত্তরাধিকার আজও দ্বিমুখী আলোচনার বিষয়। একদিকে তিনি অসহায় মানুষের সেবায় নিবেদিত এক মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব
হিসেবে স্মরণীয়, অন্যদিকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও নীতিমালা নিয়ে
উত্থাপিত সমালোচনাগুলো ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে।
(এই ডকুমেন্টারি ইন্টারনেটে
প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে)
মেহেদী হাসান দীপ