AIPAC: মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী বিতর্কিত লবি
Date: 2026-06-08
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ০৮, ২০২৬, ৭:১৩ এ.এম
AIPAC: মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী বিতর্কিত লবি
অ-অ+
আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী লবি
সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি হলো Americal Israel Public Affairs
Committe (AIPAC)। কয়েক দশক
ধরে সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে
আরও ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে এর রাজনৈতিক প্রভাব,
নির্বাচনী তৎপরতা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও সমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। AIPAC-এর যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত
AIPAC বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী জননীতি ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন
হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রশাসন ও কংগ্রেসের মধ্যে
ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা। প্রতিবছর হাজারো কর্মী, সমর্থক ও নীতিনির্ধারক AIPAC-এর সম্মেলনে অংশ
নেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে? বিশ্লেষকদের মতে, AIPAC-এর শক্তির মূল
উৎস হলো এর বিস্তৃত রাজনৈতিক
নেটওয়ার্ক এবং সংগঠিত জনসংযোগ কার্যক্রম। সংগঠনটি— # কংগ্রেস
সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে; # নীতিনির্ধারণী
বিষয়ে গবেষণা ও তথ্য সরবরাহ
করে; # সমর্থকদের
মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর জনমতভিত্তিক চাপ সৃষ্টি করে; ইসরায়েল-সম্পর্কিত আইন ও নীতির পক্ষে
সমর্থন গড়ে তোলে। যদিও AIPAC নিজেকে একটি অ্যাডভোকেসি সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়, তবুও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট
রাজনৈতিক তহবিল ও নির্বাচনী কার্যক্রম
নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনী রাজনীতিতে ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নির্বাচনে AIPAC-সমর্থিত রাজনৈতিক তহবিলের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংগঠনটির সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক
সহায়তা পেয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সমর্থকদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ বৈধ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে সমালোচকদের মতে, বিপুল অর্থব্যয় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অসমতা সৃষ্টি করতে পারে। গাজা যুদ্ধের পর নতুন বিতর্ক গাজা সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক
অস্থিরতার পর AIPAC আবারও
আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষাবিদ এবং কিছু মার্কিন রাজনীতিক অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে AIPAC বলছে, তারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত
স্বার্থ রক্ষার পক্ষে কাজ করছে এবং তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে মার্কিন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে বিভাজন— AIPAC-কে ঘিরে সবচেয়ে
বড় রাজনৈতিক বিতর্কগুলোর একটি হলো মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য। দলের প্রগতিশীল অংশের অনেক নেতা ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রশ্নে আরও সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়ার পক্ষে। অপরদিকে দলের মধ্যপন্থী ও ঐতিহ্যগত অংশ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটকে অটুট রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে থাকে। ফলে AIPAC এখন শুধু একটি লবি সংগঠন নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়েও পরিণত হয়েছে। সমালোচনা ও জবাব AIPACএর সমালোচকেরা বলেন— # সংগঠনটির
রাজনৈতিক প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী; # মার্কিন
মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে একতরফা অবস্থানকে উৎসাহিত করে; # নির্বাচনী
অর্থায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি— # AIPAC
একটি বৈধ নাগরিক সংগঠন; # যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে শক্তিশালী করা উভয় দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ; # রাজনৈতিক
অংশগ্রহণ ও লবিং যুক্তরাষ্ট্রের
সাংবিধানিক অধিকার। মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে AIPAC-এর প্রভাব নিয়ে
মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রায় ঐকমত্য রয়েছে—সংগঠনটি ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী অঙ্গনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতির ভবিষ্যৎ আলোচনায় AIPAC-এর ভূমিকা আগামী
বছরগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
(এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন
উন্মুক্ত তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন, মার্কিন নির্বাচনী নথি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।)
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more