নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান বিশ্ব
রাজনীতিতে আমেরিকা এবং
ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা পৃথিবীর জন্য
এক
জ্বলন্ত বারুদ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের যেকোনো
সাধারণ
বিশ্লেষকের কাছে
এই
নিঃশর্ত সমর্থন
কেবলই
একটি
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা
কৌশলগত
জোট।
কিন্তু
আপনি
কি
জানেন,
এই
চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের আড়ালে
লুকিয়ে
আছে
এক
ভয়াবহ
ধর্মীয়
মনস্তত্ত্ব? যেখানে
আপাতদৃষ্টিতে এক
পক্ষ
অন্য
পক্ষকে
পরম
বন্ধু
মনে
করলেও,
ভেতরে
ভেতরে
তারা
একে
অপরকে
চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকে
ঠেলে
দিতে
ব্যাকুল! ইহুদি
এবং
খ্রিষ্টানদের এই
আপাত
মধুর
সম্পর্ক আসলে
কতটা
'অপবিত্র' এবং
এর
শেষ
পরিণতি
কী?
চলুন
আজ
উন্মোচন করা
যাক
সেই
গোপন
ও
রোমাঞ্চকর রহস্য। ১.
এভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান ও
মার্কিন রাজনীতির অদৃশ্য
সুতো ইসরায়েলের প্রতি
আমেরিকার এই
অন্ধ
ও
নিঃশর্ত সমর্থনের পেছনে
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবাই
কিন্তু
একইভাবে জড়িত
নয়।
এর
মূল
চালিকাশক্তি হলো
খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে
রক্ষণশীল ও
প্রভাবশালী ধারা—'এভাঞ্জেলিক্যাল
খ্রিষ্টান'। বিশ্বের সবচেয়ে
বেশি
এভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান বাস
করে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। যার
কারণে
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ভোট
ব্যাংক
থেকে
শুরু
করে
পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে এদের
প্রভাব
অপরিসীম। এরা
মূলত
বাইবেলের ওল্ড
টেস্টামেন্টের একটি
বাণীকে
অন্ধভাবে বিশ্বাস করে,
যেখানে
বলা
হয়েছে— "যারা ইসরায়েলকে আশীর্বাদ করবে,
ঈশ্বর
তাদের
আশীর্বাদ করবেন।" তাই
১৯৪৮
সালে
ফিলিস্তিনের মাটিতে
ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনকে
তারা
কোনো
সাধারণ
রাজনৈতিক ঘটনা
মনে
করে
না।
তাদের
কাছে
এটি
হলো
বাইবেলের ভবিষ্যৎবাণীর বাস্তবায়ন এবং
যীশু
খ্রিষ্টের (ঈসা
আলাইহিস সালাম)
দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমনের
প্রধান
পূর্বশর্ত। ২.
জায়নবাদ বনাম
খ্রিষ্টান জায়নবাদ: একটি
ঐতিহাসিক বৈপরীত্য ১৯
শতকের
শেষের
দিকে
থিওডর
হারজেলের হাত
ধরে
ইহুদিদের নিজস্ব
বাসভূমির দাবিতে
'জায়নিজম' বা
জায়নবাদ আন্দোলনের জন্ম
হয়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি
বাহিনীর হাতে
প্রায়
৬০
লাখ
ইহুদি
নির্মমভাবে হত্যার
(হলকাস্ট) পর
এই
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি
বিশ্বজুড়ে তীব্র
আকার
ধারণ
করে। তবে
এখানে
একটি
চরম
বৈপরীত্য বা
ঐতিহাসিক টুইস্ট
রয়েছে: গোঁড়া
ইহুদিদের অবস্থান: অনেক
কট্টর
অর্থোডক্স ইহুদি
আজও
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর
বিরোধী। তাদের
বিশ্বাস, পবিত্র
ভূমিতে
ইহুদিদের ফিরিয়ে
নেওয়ার
দায়িত্ব কেবল
ঈশ্বরের, কোনো
রাজনৈতিক আন্দোলনের বা
মানুষের নয়। খ্রিষ্টান জায়নবাদীদের প্রবেশ:
ঠিক
এই
জায়গাতেই জন্ম
নেয়
'খ্রিষ্টান জায়নবাদ'।
এরা
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ
করে
উগ্র
ইহুদি
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে
ইহুদিদের চেয়েও
বেশি
অন্ধ
সমর্থন
দেয়।
এদের
লক্ষ্য
ইহুদিদের কল্যাণ
নয়,
বরং
নিজেদের ধর্মীয়
এজেন্ডা বাস্তবায়ন। ৩.
আর্মাগেডন ও
তৃতীয়
উপাসনালয়: মহাধ্বংসের নীলনকশা এই
অশুভ
বন্ধুত্বের মূল
সুতোটি
বাঁধা
রয়েছে
এক
ভয়ঙ্কর
মহা-যুদ্ধের বিশ্বাসের সাথে, যার নাম—'আর্মাগেডন'। বাইবেলের বিবরণ
অনুযায়ী, পৃথিবীর শেষ
সময়ে
ইসরায়েলের 'মেগিডো'
নামক
উপত্যকায় ভালো
ও
মন্দের
মধ্যে
এক
চূড়ান্ত এবং
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
সংঘটিত
হবে। এই
মহাযুদ্ধ এবং
যীশু
খ্রিষ্টের পুনরাবর্তনের জন্য
খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা ৩টি
প্রধান
পূর্বশর্ত বিশ্বাস করে: ইহুদিদের একত্রীকরণ: পৃথিবীর সমস্ত
প্রান্ত থেকে
ইহুদিদের ফিলিস্তিনের মাটিতে
এসে
একত্রিত হতে
হবে। তৃতীয়
মন্দির
নির্মাণ: জেরুজালেমের পবিত্র
আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস
করে
সেখানে
ইহুদিদের 'তৃতীয়
উপাসনালয়' বা
'থার্ড
টেম্পল'
নির্মাণ করতে
হবে। মহাবিপর্যয় সৃষ্টি:
পৃথিবীতে চরম
অস্থিরতা, যুদ্ধ
ও
দাঙ্গা
তৈরি
হতে
হবে,
যার
ফলে
'অ্যান্টি-ক্রাইস্ট' বা
দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে
এবং
তাকে
ধ্বংস
করতে
যীশু
খ্রিষ্ট ফিরে
আসবেন। ৪.
চূড়ান্ত পরিণতি:
এক
পরম
বিশ্বাসঘাতকতার সমীকরণ এই
সম্পর্কের সবচেয়ে
ভয়ঙ্কর
দিক
হলো
এর
চূড়ান্ত পরিণতি,
যা
চরমভাবে পরস্পরবিরোধী। দুই
পক্ষই
আসলে
একে
অপরকে
ব্যবহার করছে
নিজেদের ধর্মীয়
স্বার্থে এবং
অপর
পক্ষকে
ধ্বংস
করার
জন্য। ইহুদিদের বিশ্বাস: তারা
মনে
করে,
তাদের
প্রতিশ্রুত 'মসিহ'
এসে
সারা
বিশ্বে
ইহুদিদের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন
এবং
খ্রিষ্টানরা তাদের
অধীনে
চলে
যাবে। এভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস: আর্মাগেডন যুদ্ধের সময়
খ্রিষ্টানরা 'র্যাপচার' বা
অলৌকিক
উপায়ে
সশরীরে
স্বর্গে তুলে
নেওয়া
হবে।
আর
পৃথিবীতে রয়ে
যাওয়া
ইসরায়েলের তিন
ভাগের
দুই
ভাগ
ইহুদি
খ্রিষ্টানদের বাইবেলের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী নির্মমভাবে ধ্বংস
হয়ে
যাবে! সহজ
কথায়:
খ্রিষ্টানরা যত
দ্রুত
সম্ভব
ইহুদিদের ইসরায়েলে জড়ো
করতে
চায়,
যাতে
দ্রুত
'আর্মাগেডন' ঘটে
এবং
ইহুদিরা একসাথে
নিশ্চিহ্ন হয়ে
যায়!
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো,
ইহুদিরাও খ্রিষ্টানদের এই
ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যের কথা
খুব
ভালো
করেই
জানে,
তবুও
সাময়িক
রাজনৈতিক সুবিধার জন্য
তারা
এই
বিপজ্জনক জোট
বজায়
রাখছে। শেষ
কথা:
ধর্মীয়
মোহের
আত্মঘাতী সমীকরণ ধর্মগ্রন্থের ভবিষ্যৎবাণী জোর
করে
মেলানোর এই
উগ্র
ও
কৃত্রিম উন্মাদনায় আজ
পুড়ছে
মধ্যপ্রাচ্য, রক্ত
ঝরছে
লাখো
নিরীহ
ফিলিস্তিনি মানুষের। ভূ-রাজনীতির টেবিলে যেটিকে ইসরায়েল-আমেরিকার অটুট,
কৌশলগত
ও
'পবিত্র'
বন্ধুত্ব বলা
হচ্ছে,
তা
আসলে
ধর্মীয়
গোঁড়ামির এক
আত্মঘাতী ও
অপবিত্র সমীকরণ। যেখানে
বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে
লুকিয়ে
আছে
একে
অপরকে
চিরতরে
নিশ্চিহ্ন করার
এক
আদিম
আকাঙ্ক্ষা। বিশ্ব
রাজনীতি কি
কখনো
এই
অন্ধ
ধর্মীয়
মোহের
বৃত্ত
থেকে
বের
হতে
পারবে?
নাকি
এই
অপবিত্র আঁতাত
সত্যিই
সমগ্র
পৃথিবীকে ঠেলে
দেবে
এক
অবশ্যম্ভাবী মহাধ্বংসের দিকে? মেহেদী হাসান দীপ
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more