২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু স্পেনের ঐতিহাসিক শিরোপা জয় বা মাঠের উত্তেজনার জন্যই নয়, ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে এক নতুন সংস্কৃতির সূচনার জন্যও। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম সুপার বোলের আদলে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ এক হাফটাইম শো। আর সেই বিরতির মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করে পুরো বিশ্বকে চমকে দেন পপসংগীতের কিংবদন্তি ম্যাডোনা, লাতিন তারকা শাকিরা, কানাডীয় গায়ক জাস্টিন বিবার এবং কে-পপ সেনসেশন বিটিএস।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফাইনালে এমন বিনোদনের ছোঁয়া লাগায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে প্রশ্ন ছিল—এত বড় মাপের তারকারা এই মঞ্চে পারফর্ম করার জন্য কত কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন? তবে দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় এক অবাক করা তথ্য—বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এই মঞ্চে গান গেয়ে বা পারফর্ম করে এই তারকারা কেউই একটি ডলারও নেননি!
ব্যক্তিগত কনসার্ট বা করপোরেট অনুষ্ঠানে এই তারকাদের একেকটি পারফরম্যান্সের পেছনে লাখ লাখ বা কোটি ডলার খরচ করতে হয়। তবে ফিফার সঙ্গে গ্লোবাল সিটিজেনের একটি সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁরা এই পারফরম্যান্স করেন। মূলত ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং ফুটবল খেলার সুযোগ বাড়ানোর মহৎ এই উদ্যোগের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই শিল্পীরা স্বেচ্ছায় মঞ্চে অংশ নেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই জানিয়েছিলেন, এই আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং শিক্ষা, ঐক্য এবং মানবিকতার বার্তা ছড়াবে।
ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-0 ব্যবধানে নিষ্পত্তি হয়। তবে মাঠের খেলার চেয়েও বেশি আলোচনা তৈরি করে এই হাফটাইম শো। সাধারণত ১৫ মিনিটের ফুটবল বিরতি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের কারণে বেড়ে প্রায় ২৭ মিনিটে দাঁড়ায়।
এর ফলে ফুটবলের মূল ছন্দ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বিবিসি স্পোর্টসের বিশ্লেষক ওয়েন রুনি সরাসরি জানান যে শিল্পীদের তিনি পছন্দ করলেও এই হাফটাইম শো তাঁর ভালো লাগেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পক্ষে-বিপক্ষে নানা তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পক্ষ মনে করছে এর মাধ্যমে ফুটবল আরও বৈশ্বিক বিনোদনের রূপ পেল, অন্য পক্ষের মতে এটি ফুটবলের আদি ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলের সুপার বোলে যেভাবে শিল্পীরা সরাসরি পারিশ্রমিক না নিয়ে বিশাল বৈশ্বিক প্রচারণার সুযোগ পান, বিশ্বকাপের এই হাফটাইম শোতেও যেন ঠিক সেই দর্শেরই প্রতিফলন ঘটল।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more