এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কক্সবাজারের ফাতেমা
Date: 2026-08-29
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:০৬ এ.এম
এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কক্সবাজারের ফাতেমা
অ-অ+
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে সার্ফিং। রোমাঞ্চকর এই ইভেন্টে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় সূচনা করেছে বাংলাদেশ। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ কেটে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছেন কক্সবাজারের তরুণী ফাতেমা আক্তার। প্রথম বাংলাদেশি নারী সার্ফার হিসেবে এশিয়ান গেমসে সুযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে সার্ফিং ইভেন্টে এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক অবর্তন।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর আইচি প্রিফেকচারের তাহারা সিটির প্যাসিফিক লং বিচ ও আকাবানে লং বিচে অনুষ্ঠিত হবে সার্ফিং প্রতিযোগিতা। এশিয়ার বৃহৎ এই ক্রীড়া আসরে এবারই প্রথম সার্ফিং ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের প্রতিযোগী নামছে। পুরুষ বিভাগে মোহাম্মদ মান্নান এবং নারী বিভাগে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ফাতেমা আক্তার।
আসন্ন প্রতিযোগিতা ঘিরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে চলছে নিবিড় অনুশীলন। বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাবের কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে সতীর্থ মান্নানের সঙ্গে নিয়মিত ঘাম ঝরাচ্ছেন ফাতেমা। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ে তোলার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ফাতেমার মূল বাড়ি কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তাঁর পরিবার শহরের কলাতলী এলাকায় চলে আসে। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ফাতেমার বাবা ফকির আহমদ একজন সাধারণ মানুষ। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ফাতেমার আজকের এই অবস্থানে আসার পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। পরিবারের প্রবল সমর্থন এবং কোচদের অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁর এই দীর্ঘ লড়াইয়ের মূল শক্তি।
ফাতেমার অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করে কোচ রাশেদ আলম বলেন, "ফাতেমার মূল শক্তি তাঁর অসীম সাহস ও কঠোর পরিশ্রম। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সে অনুশীলনে ছাড় দেয় না। আশা করছি এশিয়ান গেমসে সে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।"
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার হিসেবে দেখছেন ফাতেমা। তবে কক্সবাজারের ঢেউ থেকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছানোর আনন্দ থাকলেও খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্ফিংয়ের মতো ব্যয়বহুল ও সম্ভাবনাময় খেলাকে এগিয়ে নিতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক স্পনসরশিপ ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা জরুরি।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more