প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: মে ২৮, ২০২৬, ২:৩৮ পি.এম
বাকেরগঞ্জ ৭মাসের শিশু মাইশার ঈদ কাটলো থানায়
অ-অ+
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জে অপহরণ
মামলার আসামি হিসেবে এক তরুণীকে আটক করার সময় তার সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকেও থানায়
নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগের রাতে মায়ের সঙ্গে
থানার চার দেয়ালের ভেতরে কাটাতে হয়েছে নিষ্পাপ শিশু মাইশাকে। জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার
রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সাবিকুন্নাহার আফরিন (১৬)
প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন একই গ্রামের আব্দুল হক সিকদারের ছেলে মুরাদ সিকদারের সঙ্গে।
পরিবারের অমতে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না
হওয়ায় বিয়েটি আইনসম্মত ছিল না। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর
সাবিকুন্নাহারের বাবা বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় মুরাদ সিকদার ও তার বাবা আব্দুল হক
সিকদারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-৩৪। মামলার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে
ছিলেন এই দম্পতি। এরই মধ্যে তাদের কোলজুড়ে আসে কন্যা সন্তান মাইশা। বয়স এখন সাত মাস। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগে দীর্ঘদিন পর স্বামী মুরাদ সিকদারের বাড়িতে ঈদ করতে আসেন
সাবিকুন্নাহার। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই নাজমুল মোল্লা সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযান
চালিয়ে সাবিকুন্নাহার ও তার শিশুকন্যা মাইশাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান। একদিকে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা,
অন্যদিকে বুকের দুধের শিশু মাইশা। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার বয়স না হলেও ঈদের রাত তাকে কাটাতে
হয়েছে থানায় মায়ের সঙ্গে। ঘটনাটি এলাকায় মানবিক আলোচনার
জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আইনের নিজস্ব প্রক্রিয়া থাকলেও সাত মাসের একটি
শিশুর ঈদের রাত থানায় কাটানোর ঘটনা হৃদয়বিদারক। কারণ শিশুটি জানে না মামলা কী, অপরাধ
কী কিংবা সমাজের কঠিন বাস্তবতা কতটা নির্মম হতে পারে। তার কাছে মায়ের বুকই পুরো পৃথিবী। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “কোরবানির দিন দুপুরের
পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more