বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ও শিশুকন্যাকে নির্যাতনের অভিযোগ
অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ২:২৫ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ২:২৫ পি.এম
বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ও শিশুকন্যাকে নির্যাতনের অভিযোগ
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী রিমা আক্তার বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানসহ একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী রিমা আক্তার বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার আবদুস সালাম মৃধার মেয়ে। পাঁচ বছর আগে আবুবকরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ফাহমিদা নামে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
রিমা আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে স্বামীর চাকরির জন্য যৌতুকের টাকা দাবি করে তাঁকে বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতন করা হতো। প্রথমে চার লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং পরে আরও তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
অভিযোগে স্বামী আবুবকর, শ্বশুর খলিল মাওলানা, ভাশুর ফয়জুল ও নাসিমা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রিমা। এ সময় তাঁর শিশু কন্যা ফাহমিদাকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। তাঁদের বাড়িতেও পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত খলিল মাওলানার বেয়াই আনিচ খাঁ জানান, এর আগে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কেন পুত্রবধূ ও শিশু নাতনি ফাহমিদাকে মারধর করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় সালিশে যুক্ত ধানদী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ জানান, ওই নারী নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর আগে একটি অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করেন। নারীটি তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যা পরে প্রত্যাহার করা হয় বলে তিনি জানান। এরপর আবারও যৌতুকের টাকাকে কেন্দ্র করে ওই নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে থানা পুলিশের সহায়তায় ওই নারী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more