বাউফলে নিজ কার্যালয়ে বসেন না স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ
নভেম্বর ০৩, ২০২৬, ১২:৩০ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০৩, ২০২৬, ১২:৩০ পি.এম
বাউফলে নিজ কার্যালয়ে বসেন না স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত বসেন না কর্মকর্তা এম এম শাহাবুদ্দিন। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ নিতে এসে অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় কার্যালয় ও আশপাশের সরকারি জায়গা ময়লা-আবর্জনা এবং ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন হাসপাতাল এলাকার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে। কার্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে জায়গাটি অনেকটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। কার্যালয়ের বারান্দায় লেপ-তোশক তৈরির বিভিন্ন মালামাল রাখা রয়েছে। অফিসের সামনে কোনো সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। এ অবস্থায় কার্যালয়টিতে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিনকে তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না। তিনি কোথায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন, সে বিষয়েও সাধারণ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও সেবা নিতে এসে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। বন্যার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তিনি সেখানে বসেন না। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয় বলে নিয়মিত অফিসে বসা সম্ভব হয় না।
তবে সরেজমিনে কার্যালয়টিতে বিদ্যুতের সংযোগ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন অফিসে নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, কার্যালয়টি মেরামত করা প্রয়োজন। এ কারণে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করেন। কার্যালয়টি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এদিকে হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোথায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না। তবে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করেন বলে শুনেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কার্যালয়টির এমন অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়। সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত কার্যালয়টি সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more