চাঁদা না পেয়ে ডাক্তারকে প্রাণনাশের হুমকি, গ্রেপ্তার ৭
Date: 2026-09-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬, ৫:৫৩ এ.এম
চাঁদা না পেয়ে ডাক্তারকে প্রাণনাশের হুমকি, গ্রেপ্তার ৭
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চট্টগ্রামে এক চিকিৎসকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি অপরাধী চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে পুলিশের একাধিক দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মূলত যশোর থেকে আটক হওয়া কারাবন্দি সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’-এর বেতনভুক্ত সহযোগী। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ও রায়হান আলমের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি পরিচালনা করে আসছিল।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে চিকিৎসক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয় এবং সঙ্গে ১০০ জন পুলিশ নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রাখলেও গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ দ্রত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় হুমকিদাতাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযানে নামে।
গ্রেপ্তারকৃত সাতজন হলেন— কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত, আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার, আহমদ রেজা শাকিল, মো. মানিক এবং নুরুল আলম। এদের মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত প্রায় আটটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, চক্রটির মূল দুজন হুমকিদাতা কামরুল হাসান ও তরিকুল ইসলাম সরাসরি ফোন ও বার্তার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাতেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম ভাঙানোর পাশাপাশি এই চক্রটি অনেক সময় অন্যান্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে নিজেদের মতো করে চাঁদা তুলত। এই ধরনের অপপ্রচারের প্রেক্ষিতে বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং তাদের নাম ভাঙিয়ে যারা চাঁদা আদায় করছে তাদের শনাক্ত করার জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজে ভীতি সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রেখে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more