প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৫:২২ এ.এম
ডেটার যুগে বাংলাদেশ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ‘ডেটা’ বা উপাত্ত বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে, যা আধুনিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। বিগত দেড় দশকে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বর্তমানের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ২০৪১ রূপকল্পের মূল স্তম্ভ হলো এই উপাত্তের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগ ডেটার এই সময়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে ডেটা-চালিত শাসনব্যবস্থা অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও উপাত্তের অপব্যবহারের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
উপাত্তের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার দেশের বিভিন্ন খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো নাগরিক সেবাসমূহের ডিজিটালাইজেশনের ফলে সরকারের কাছে বিশাল ডেটাবেজ রয়েছে, যা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সঠিক বণ্টন ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব। এছাড়া ই-কমার্স, ফিনটেক ও লজিস্টিকস খাত পুরোপুরি ডেটা নির্ভর হয়ে ওঠায় স্টার্টআপগুলো নতুন সেবা উদ্ভাবন করছে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কৃষি খাতে স্যাটেলাইট ডেটা ও আবহাওয়া পূর্বাভাসের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও ডেটা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসায় ভুলের হার কমানো এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার রোধ করা সম্ভবপর হচ্ছে।
সম্ভাবনার পাশাপাশি উপাত্তের এই অবাধ প্রবাহ বাংলাদেশের সামনে বড় ধরনের কিছু ঝুঁকিও সৃষ্টি করেছে। সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামোর অভাব এবং দুর্বল এনক্রিপশনের কারণে অতীতে ডেটাবেজ থেকে তথ্য ফাঁস ও হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে আইনি ঘাটতির কারণে গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়া কিংবা রাজনৈতিক নজরদারির শঙ্কা রয়েছে। অর্থনৈতিক সূচক বা তথ্যের রাজনৈতিক অপব্যবহার সামষ্টিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এছাড়া ডেটা লিটারেসি বা তথ্য সাক্ষরতার অভাব এবং শহর-গ্রামের ডিজিটাল বিভাজন এই সুবিধার পরিধি সীমিত করে দিচ্ছে।
ডেটার যুগের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জন করতে হলে একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। প্রস্তাবিত ডেটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার পাশাপাশি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। রাষ্ট্রীয় উপাত্তের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত রাখা দরকার। এছাড়া নাগরিকদের ডেটা দেশের ভেতরে সুরক্ষিত রাখতে নিজস্ব সার্বভৌম ক্লাউড অবকাঠামো ও টিয়ার-৪ ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশেষায়িত জনবল তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী সাইবার প্রতিরক্ষাই পারে বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মূল লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more