অনলাইন ডেস্ক:
কেন্দ্রীয় কোনো অভিন্ন নীতিমালা না থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদে পরীক্ষা ও উন্নয়ন ফি আদায়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ১২টি অনুষদের আওতাধীন ৫৯টি বিভাগে ভর্তির সাধারণ খরচের বাইরে বিভাগভিত্তিক পরীক্ষার ফর্ম পূরণ, মানোন্নয়ন পরীক্ষা, বিভাগ সমিতি এবং বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন খাতে খেয়ালখুশিমতো বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিভাগগুলো নিজেদের মতো করে ফির মাত্রা নির্ধারণ করছে, যার কোনো স্পষ্ট আয়-ব্যয়ের হিসেবও শিক্ষার্থীদের জানানো হয় না।
পরীক্ষার ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে অনুষদভেদে তত্ত্বীয়, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফি আদায়ে বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ করা গেছে। কিছু বিভাগে কোর্সপ্রতি ফি ধার্য করা হলেও অনত্র ঘণ্টার ওপর ভিত্তি করে ফি নেওয়া হচ্ছে। নন-কলেজিয়েট জরিমানার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম; যেখানে আইন অনুযায়ী ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা ফি নির্ধারিত, সেখানে ফাইন্যান্স বিভাগের মতো বিভাগগুলো জরিমানার নামে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ফার্সি ও ভাষা সাহিত্য বিভাগে লিখিত নোটিশ ছাড়াই বিভাগ উন্নয়নের নামে সেমিস্টারপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মানোন্নয়ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফি আদায়ের চিত্র আরও ভয়াবহ। অনেক বিভাগে মানোন্নয়ন ফি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা হলেও ফাইন্যান্স বিভাগে তা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা আদায়ে সরাসরি বিভাগীয় সভাপতির নামে টাকা জমা নেওয়ার মতো নীতিবহির্ভূত পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার বাইরে বিভাগীয় সমিতি, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও পিকনিকের নামেও প্রতি সেমিস্টারে বাড়তি চাঁদা আদায় অব্যাহত রয়েছে। রেজাল্ট খারাপ হওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায্য অতিরিক্ত ফি আরোপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং শিগগিরই অনুষদগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ও সুশৃঙ্খল নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তথ্য: বিডিনিউজ / বিডিফেস