জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিনিয়োগে আসছে নতুন গতি
অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৪:৫৯ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৪:৫৯ এ.এম
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিনিয়োগে আসছে নতুন গতি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চার দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক জাপানের হালনাগাদ করা 'বিগ-বি' (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) মহাপরিকল্পনা এবং বড় অংকের বিনিয়োগ।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই নেতার উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং ভূরাজনীতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন এবং চিবার ফুতসুতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ টয়োটার বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করবেন।
সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের রূপরেখা জাপানি গণমাধ্যম 'নিক্কেই এশিয়া'-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে জাপানি বেসরকারি খাত।
এর অংশ হিসেবে জাপানি শীর্ষ অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশে একটি গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ ও কেব্ল সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলে এটি দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অন্যদিকে, দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে জাপানের বৃহত্তম জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'জেরা' মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
চার স্তম্ভে সাজছে নতুন 'বিগ-বি' রূপরেখা ২০১৪ সালে তৎকালীন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উদ্যোগে শুরু হওয়া 'বিগ-বি' মহাপরিকল্পনাটি পরিবর্তিত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখন নতুন করে চার স্তম্ভের ওপর সাজানো হচ্ছে। এই চার স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে—
১. আঞ্চলিক সংযোগ ও লজিস্টিকস: মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও এলএনজি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে একে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের হাব হিসেবে গড়ে তোলা, যার সুফল পাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ, নেপাল ও ভুটান।
২. ঝুঁকি মোকাবিলা ও স্থিতিশীলতা: বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বা প্রাকৃতিক সংকটে বাংলাদেশকে নিরাপদ বিকল্প সামুদ্রিক পথ হিসেবে প্রস্তুত রাখা।
৩. পিপিপি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ: সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো।
৪. সামুদ্রিক নিরাপত্তা: বঙ্গোপসাগরে মুক্ত ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি। এর অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ইতোমধ্যে পাঁচটি টহল নৌযান দিয়েছে এবং কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক টহল জাহাজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ভূকৌশলগত গুরুত্ব ও মাতারবাড়ী বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে টোকিও। একদিকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অন্যদিকে জাপানের 'অমুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক' (এফওআইপি) নীতির মাঝে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি হাব বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জাপান সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more