প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৪:৪১ এ.এম
যশোরে প্রেস ক্লাব দখলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
যশোরের কেশবপুর প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের দুটি পক্ষের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে প্রেস ক্লাব চত্বরে ঘটা এই আকস্মিক সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেস ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, আর এই নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই মূলত দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
সংঘর্ষে আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক লোকসমাজের জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণের আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সময়ের খবরের জাহিদ হাসান এবং প্রথম আলোর দিলীপ মোদক। সাংবাদিকদের একটি পক্ষের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ওয়াজেদ খান ডাবলুর নেতৃত্বে মাহবুবুর রহমান ও আশরাফুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন অতর্কিতভাবে ক্লাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বর্তমান সদস্যদের বের করে দিয়ে জোরপূর্বক প্রেস ক্লাব দখল করে নেয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রথম আলোর প্রতিনিধি দিলীপ মোদককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। প্রেস ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ জানিয়েছেন, তারা এই হামলার ঘটনায় থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন।
অন্যদিকে, হামলার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু। তার দাবি, যারা অভিযোগ করছে তারা প্রকৃত সাংবাদিক নয়, বরং তারা চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসর। দীর্ঘদিন পর প্রকৃত সাংবাদিকরা ক্লাবে প্রবেশ করতে গেলে উল্টো তাদের ওপরই হামলা চালানো হয় বলে তিনি জানান। এতে তাদের পক্ষেরই পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং তারা পাল্টা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে, এই উত্তেজনার পরপরই একটি পক্ষ প্রেস ক্লাবের জন্য ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। ওই কমিটিতে মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন আর রশিদকে সদস্যসচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকে থানায় এসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে আসেনি; তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more