জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনে ব্যাহত পাঠদান, ঝুঁকিতে ৮৫৭ শিক্ষার্থী
Date: 2026-07-05
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৫, ২০২৬, ৪:৪৫ পি.এম
জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনে ব্যাহত পাঠদান, ঝুঁকিতে ৮৫৭ শিক্ষার্থী
অ-অ+
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শেরে
বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে স্বাভাবিক
শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনিরাপদ পরিবেশে পাঠদান, নিয়মিত ক্লাসে
বিঘ্ন এবং খেলাধুলাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে
বর্তমানে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। পাঁচটি ভবন থাকলেও অধিকাংশই
বহু বছরের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে
একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় ২৯ বছরেও নতুন কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের
বিভিন্ন দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং বারান্দার ক্ষতিগ্রস্ত
অংশ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের
মাঠ, চলাচলের পথ ও শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা
না থাকায় কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে
হয় এবং সাপসহ বিষধর প্রাণীর আশঙ্কাও দেখা দেয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়,
জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর অন্তত তিন থেকে চার দিন বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়।
বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় বছরে প্রায় ১০
শতাংশ কম পাঠদান হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত
চাপ নিতে হয়। জেলার অন্যতম বড় বিদ্যালয়
মাঠটি বছরের প্রায় ছয় মাস পানির নিচে থাকায় খেলাধুলা, পিটি, কুচকাওয়াজ, বার্ষিক ক্রীড়া
প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক
ও মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
রাহিমা মিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল
অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন
করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সুপারিশও ছিল। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি
হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক সময় ভিজে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়,
আবার পানি বেশি হলে বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় মাঠ পানির নিচে থাকায় খেলাধুলার
সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ
ভবনে সন্তানদের পাঠাতে তারা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত
হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল
অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. মনিরুল কবির বলেন, বিদ্যালয়ের ড্রেনেজ
ব্যবস্থার উন্নয়ন পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন ভবন নির্মাণ সরকারি
অনুমোদন ও বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাঠানো অগ্রাধিকার তালিকায়
বিদ্যালয়টির নাম রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক
ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন
ভবন নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ
ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more