প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ০৫, ২০২৬, ২:৪৯ পি.এম
এনসিপির বিকল্প বাজেট প্রস্তাব
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক: জাতীয়
নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন
করেছে, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের
প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দলটির মতে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে
দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত
হবে। শুক্রবার
রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের
বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত
বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। বাজেটে মূল্যস্ফীতি
কমিয়ে আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল
করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ০৯ শতাংশের
মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। রাজস্ব
আহরণ বাড়াতে একাধিক সংস্কার প্রস্তাব করেছে দলটি। করজাল সম্প্রসারণ, বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের
সমন্বয়, সম্পদ কর চালু এবং বন্দর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব
আদায়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা
বৃদ্ধির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। শিক্ষা
খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়ে এনসিপি জানিয়েছে, বিদ্যালয় পর্যায়ে পুষ্টিকর
খাবার কর্মসূচি সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের
উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য
বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিরও পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য
খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গুরুতর
রোগের চিকিৎসা ব্যয়ে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং জরুরি
স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৃষি
খাতে আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা, সরাসরি ভর্তুকি প্রদান এবং খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর
উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি
এবং গ্রামীণ এলাকায় সৌর প্রযুক্তির বিস্তারে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব রাখা
হয়েছে। নারী
উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক তহবিল গঠন, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি সম্প্রসারণ এবং সামাজিক
নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনাও বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে সংস্কার,
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে
দলটি। সংবাদ
সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, তাদের এই বিকল্প বাজেট কেবল অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা
নয়; বরং একটি জবাবদিহিমূলক, বিনিয়োগবান্ধব এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা। তথ্য:
বাংলাদেশ প্রতিদিন/ বিডিফেস মেহেদী
হাসান দীপ
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more