বাউফল সংবাদদাতা :
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার
দাসপাড়া ইউনিয়নে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
দাসপাড়া ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির কাওসার সিকদারের কাছে ধুলিয়া ইউনিয়নের জাকির খানের মেয়ে
ফারজানা আক্তার নামে এক কিশোরী প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চলে আসেন। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে ওই
কিশোরী কাওসারের বাড়িতে অবস্থান করায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এলাকার
গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে কাওসারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত
হয়ে পড়েন। এসময় কাওসারের ভগ্নিপতি ও স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক শাকিবুল ইসলাম জানান,
তিনি উভয়ের মধ্যে কলেমা পড়িয়ে দিয়েছেন, তবে এখনো কাবিন সম্পন্ন হয়নি। এ কথা শুনে এলাকাবাসী
ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কাবিন ছাড়া এ সম্পর্ককে বিয়ে হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর জেরে কাওসার শিকদার,
তার ভাই ও ভগ্নিপতি মিলে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালান। এতে লোকমান, রিমা বেগম,
পারভেজ ও মিনারা বেগম আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা পারভেজ শিকদারের দোকান ভাঙচুর
করে ৩-৪ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পরে এলাকাবাসী প্রতিরোধ
গড়ে তুললে আইয়ুব আলী শিকদার ও তার ছেলে কাওসার তাদের লোকজন নিয়ে পুনরায় হামলা চালান।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬-৭ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ভর্তি করা হয়। এদিকে, এ ঘটনার পর কাওসার শিকদার স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে বিভ্রান্তিমূলক
তথ্য দিয়ে দাবি করেন যে, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষ তার ছেলেকে মারধর করেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের
হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কাওসারের ভগ্নিপতি
শাকিবুল ইসলাম জানান, “আমি অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে কলেমা পড়ে বিয়ে দিয়েছি। সুযোগ করে
কাবিন সম্পন্ন করা হবে।”