পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ সম্পদ এবং তাদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারলেই কেবল একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার আয়োজনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একটি জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শিক্ষিত, নৈতিক ও দক্ষ মানবসম্পদ। আজ যারা বৃত্তি অর্জন করেছে, তারা শুধু নিজেদের পরিবারের নয়, বরং পুরো বাউফলের গর্ব এবং তাদের এই সাফল্য ভবিষ্যতের আরও বড় অর্জনের পথ তৈরি করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। একই সাথে বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানে দক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে সন্তানদের আদর্শ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি কে. এম. তামিম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম সোহেল, সাবেক জেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর এবং বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি লিমন হোসেন। অনুষ্ঠানে বাউফলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, সুধীজন ও ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ সান ও জোহরা, নুরাইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নুহা ইসলাম এবং আলী আকবর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লগ্ন দাসসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তারা জানায়, এই সম্মাননা ও মূল্যায়ন তাদের পড়াশোনায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যতে কঠোর পরিশ্রম করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিকভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত সকল কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে একে একে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের অংশ হিসেবে উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ছিল কলম, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দোয়া সম্বলিত স্টিকার এবং শিক্ষণীয় মোটিভেশনাল ও ইসলামিক বই।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more