সাংবাদিকতা, দায়বদ্ধতা ও বাস্তবতার প্রশ্ন

Date: 2026-05-18
news-banner

সম্পাদকীয়
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় সাংবাদিকতা নিয়ে যে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি উপজেলার সীমাবদ্ধ ঘটনা নয়; বরং দেশের সামগ্রিক গণমাধ্যম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। সভায় একজন সাংবাদিকের “অভাব থাকলে সাংবাদিকতা নয়” মন্তব্য যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ ও তথ্যপ্রাপ্তির বাধা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে।
সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের অনেক স্থানীয় সাংবাদিক সীমিত আর্থিক সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করে থাকেন। তাই “অভাব থাকলে সাংবাদিকতা করা উচিত নয়” ধরনের মন্তব্য অনেকের কাছে কঠোর ও বিতর্কিত মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, সাংবাদিকতার নামে দায়িত্বহীন বা যাচাইবিহীন সংবাদ প্রকাশও সমানভাবে উদ্বেগের বিষয়। একটি ভুল বা অতিরঞ্জিত সংবাদ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা পুরো সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সংবাদ প্রকাশে তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সভায় সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তথ্য অধিকার নিশ্চিত না হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক প্রতিপক্ষের নয়; বরং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে উভয় পক্ষই পরস্পরের সহযোগী।
একটি সুস্থ সমাজে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন তথ্য প্রদানে প্রশাসনের আন্তরিকতা এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন পারস্পরিক সম্মান ও যুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
বাউফলের এ আলোচনা অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে— সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে সমাজে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

Leave Your Comments