সরকারের সাফল্যের চেয়ে ঘাটতি বেশি: টিআইবি

Date: 2026-02-03
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রমে সাফল্যের তুলনায় ঘাটতির পাল্লাই ভারী-এমন মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, জুলাই আন্দোলন থেকে রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র কার্যকর কোনো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি, ফলে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬০০টি ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এই পরিস্থিতিতে মব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে ভিত্তি গড়ে তোলার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল, দেড় বছর পরও তা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঘাটতি ও পথভ্রষ্টতার উপাদানই বেশি।

তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই সংস্কারকে কাগুজে প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছে, বাস্তবায়নের ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বিচার, নির্বাচন ও সংস্কারের যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা আইনগত বা সাংবিধানিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও খাতের নিয়ন্ত্রণ দখলকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল থাকায় সহিংসতায় জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে উপদলীয় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতা, প্রার্থীদের ওপর হামলা, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ, অস্ত্র নিখোঁজ এবং ডিপফেক ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নির্বাচনী পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এ ছাড়া পুলিশের স্বল্প উপস্থিতি এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার প্রশ্নেও সরকারের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, পর্যবেক্ষক সংস্থার সক্ষমতা ও প্রার্থী যাচাইয়ে পক্ষপাতের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের অপব্যবহার অব্যাহত রয়েছে, যা সুষ্ঠু ও সমান প্রতিযোগিতার বড় বাধা। তিনি আরও বলেন, মব সন্ত্রাসের উৎপত্তি সরকারের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছে, যা সরকারের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

গণতান্ত্রিক সংস্কার সফল করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সহিংসতার ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। এ জন্য সরকারকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


তথ্য-বিডিনিউজ/এমডিউক

Leave Your Comments