প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৪, ২০২৬, ৪:৩৫ এ.এম
১৮ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয় ডলু নদের পেটে
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রবাসজীবনের সমস্ত কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে পৈতৃক চার শতক জমিতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. সেলিম (৫৫)। প্রবাস থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নয় সদস্যের পরিবার নিয়ে সেই ঘরেই কাটছিল তাঁর সুখের দিন। কিন্তু গত সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত চোখের পলকে তছনছ করে দিয়েছে তাঁর সেই সাজানো সংসার। সাতকানিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সামিয়ারপাড়ায় ডলু নদের পাশেই ছিল সেলিমের বাড়িটি। গত বুধবার মধ্যরাতে ডলু নদের উত্তাল স্রোতে প্রথমে বাড়ির সামনের সড়কটি ভেঙে যায়। এরপর পানির তীব্র আঘাত এসে লাগে তাঁর বাড়ির সীমানাপ্রাচীরে। বিপদ আঁচ করতে পেরে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এর পরদিনই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডলু নদের প্রবল গ্রাসে সম্পূর্ণ ধসে পড়ে সেলিমের ১৫ বছর আগে তৈরি করা সাধের পাকা ভবনটি। একই সঙ্গে নদের পেটে বিলীন হয়ে যায় তাঁর শেষ সম্বল ভিটেমাটিও।
ভিটেমাটি ও বসতঘর হারিয়ে বর্তমানে এক প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন দিশাহারা সেলিম ও তাঁর পরিবার। নিজের পরনের কাপড় ছাড়া ঘরের কোনো আসবাবপত্র বা জিনিসপত্রই রক্ষা করতে পারেননি তাঁরা। সারা জীবনের উপার্জনের শেষ চিহ্নটুকু হারিয়ে সেলিম বুকফাটা আর্তনাদে জানান, বহু কষ্টের জমানো টাকায় ঘরটি করেছিলেন, যা চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। এখন এত বড় পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন, কী করবেন—তা ভেবে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না তিনি।
এদিকে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েন প্রায় চার লাখের বেশি মানুষ। বর্তমানে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, পানি কমার সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে উঠছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতবিক্ষত চিত্র।
আজ সোমবার বন্যাকবলিত এই উপজেলা পরিদর্শনে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বন্যায় যাঁদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ঘরবাড়ি মেরামতে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সাথে যাঁদের ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গবাদি পশুসহ উপার্জনের খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের পুনর্বাসনেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more