৩২ মামলার আসামি শহীদুল: মাত্র ১১ দিনে মিলল ৩ গুরুত্বপূর্ণ মামলার জামিন
Date: 2026-07-18
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ৪:৩৪ এ.এম
৩২ মামলার আসামি শহীদুল: মাত্র ১১ দিনে মিলল ৩ গুরুত্বপূর্ণ মামলার জামিন
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকার ত্রাস, একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অস্ত্র ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর মামলায় একের পর এক এই জামিনের খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কারাগার ও আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে, চান্দগাঁও থানার দুটি অস্ত্র মামলায় গত ২ জুলাই এবং পাঁচলাইশ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সর্বশেষ ১২ জুলাই হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন শহীদুল। চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জামিননামা যাচাইয়ের পর তা কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না এই দুর্ধর্ষ অপরাধী। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ জানান: > "বন্দী শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনের মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি অস্ত্র ও হত্যাচেষ্টাসহ তিনটি মামলার জামিননামা কারাগারে এসে পৌঁছালেও, অন্যান্য মামলা থাকায় এখনই তাঁর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলার দৌলতখান উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে শহীদুলের পড়াশোনা মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। চট্টগ্রাম নগরে প্রথমে চুরি ও ধাক্কা পার্টি দিয়ে অপরাধ জগতে পা রাখলেও পরবর্তীতে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি বিপুল ক্ষমতার মালিক হন। নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি নিজস্ব বাহিনী ও একাধিক কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সমাবেশে দলবল নিয়ে তাঁর যোগদানের ছবি ও ভিডিও রয়েছে। চাঁদা না পেলেই প্রকাশ্যে গুলি ছোঁড়া ছিল তাঁর চেনা রূপ। এমনকি চাঁদাবাজি ও মাদকের টাকা দ্রুত গণনার জন্য তাঁর আস্তানায় টাকা গণনার যন্ত্রও রাখা হতো।
গত বছরের ২১ জুলাই চান্দগাঁও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার একটি ভবনে শহীদুলের নিজস্ব ‘টর্চার সেল’-এ অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁর ১১ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে থানা থেকে লুট হওয়া গুলিসহ দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ২১ ডিসেম্বর র্যাবের হাতে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার হন শহীদুল।
বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও মাত্র ১১ দিনে ৩টি মামলায় জামিন পাওয়ার ঘটনায় বাদুরতলাসহ আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই সন্ত্রাসী কোনোভাবে কারাগার থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এলে এলাকায় পুনরায় অশান্তি নেমে আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়বে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more