প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬, ২:৩৪ এ.এম
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দ্বিমুখী চাপে বিএনপি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ছয় মাস পার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর রাজপথের আন্দোলন ছেড়ে দলটিকে এখন সামলাতে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার বড় দায়িত্ব। তবে ক্ষমতার এই ছয় মাসে সরকারি কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠপর্যায়ের সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই আজ ১ সেপ্টেম্বর নিজেদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে দলটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের একটি বড় অংশ এখন মন্ত্রিসভা, সংসদ ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ব্যস্ত। ফলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম দিবসকেন্দ্রিক আয়োজনেই সীমিত হয়ে পড়েছে।
ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে লবিং ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ
ক্ষমতায় আসার পর দলের ভেতরকার গতিপ্রকৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এখন দলীয় পদ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমর্থন পেতে তৎপর। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে লবিং বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিগত দুই দশকের ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভ ও বিরোধ সামলানো বিএনপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজপথের আন্দোলনে অনুপস্থিত বা সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত অনেকেই এখন প্রশাসন ও দলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ওপর কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ভাবমূর্তি সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে; সম্প্রতি সংসদীয় দলের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেছেন, সংশোধন না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থনৈতিক সংকট ও বিরোধী রাজনৈতিক চাপ
সরকার পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপিকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে একাধিক বাস্তব সমস্যার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ-গ্যাসের ঘাটতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরব রয়েছে।
তবে এসব চাপ ও সংকটের বিষয়ে দলের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সমস্যা সমাধানের জন্য।
সংগঠন সচল রাখার প্রয়াস রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দলীয় সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য আনতে বিএনপি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে নতুন চারজন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকার ও দলের মধ্যে কাজের সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতৃত্বের বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্র পরিচালনার বিশাল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তৃণমূলের সংগঠনকে কতটা সক্রিয় ও জনসম্পৃক্ত রাখা সম্ভব হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more