আইনশৃঙ্খলা নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ

Date: 2025-12-16
news-banner

অনলাইন ডেক্স :

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সারা দেশে শুরু হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। অধিকাংশ দলই প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে। মনোনয়ন পেতে দলবদলের প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, আচরণবিধি প্রতিপালন, মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, সংঘাত-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, প্রবাসীদের ভোটাধিকার (পোস্টাল ভোটিং) এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ-এই নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

তফসিল ঘোষণার এক দিন পর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন নানা দিক থেকে ব্যতিক্রমী। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি অনন্য মাত্রা পেয়েছে। তবে একটি বড় দল ভোটের বাইরে থাকায় এবং বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার পরীক্ষাও সামনে এসেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা ও কার্যকারিতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদাচরণ না থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে চ্যালেঞ্জ অনেকটাই কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তফসিল ঘোষণাকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট জাতির ইতিহাসে অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি উৎসবে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চলমান মব সহিংসতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক জোটের ভেতরের হিসাব-নিকাশ ভোটের পরিবেশ নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি করছে বিশ্লেষকদের মতে, । আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে থাকা এবং জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও নির্বাচনকে ঘিরে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও রয়েছে মাঠ প্রশাসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে। 


তথ্যসূত্র-বিডিপ্রতিদিন

Leave Your Comments