বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
:
পটুয়াখালী বাউফলের ঐতিহ্যবাহী
প্রেসক্লাব নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর নেতৃত্ব নির্বাচনের
এই আয়োজনে ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর)
অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মোট ৪৭ জন ভোটার ১১টি পদে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বাউফল প্রেসক্লাবের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল
ইতিহাস। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম নিজাম (দৈনিক কৃষাণ
ও দৈনিক দিনকাল) জানান, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় মোট আটজন সদস্য ছিলেন। বর্তমানে
জীবিত রয়েছেন তিনজন। মো. রেজাউল করিম নিজাম, মো. আমিরুল ইসলাম (স্যার) ও খোকন কর্মকার।
প্রয়াত সদস্যরা হলেন-শাহাদাত খান (সাপ্তাহিক জাহানও), রবিন দাস (সাপ্তাহিক একতা), আলতাফ
মাহমুদ (বাংলার বাণী), বাদল খান (সাপ্তাহিক ঝংকার) ও ইউনুস স্যার (সাপ্তাহিক চাষি)।
তিনি আরও জানান, প্রেসক্লাব
প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অফিস ভবনের জন্য
খাস জমির আবেদন করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। পরে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক বজলুল করিম স্যারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পাবলিক
লাইব্রেরির একটি কক্ষ প্রথমে প্রেসক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেটি ছিল ১৯৭৯–১৯৮০ সালের
দিকের ঘটনা।
পরবর্তীতে তৎকালীন সংসদ সদস্য
শহীদুল আলম তালুকদারের উদ্যোগে খাস জমি বরাদ্দ পাওয়ার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের স্থায়ী
ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। যদিও বর্তমান ভবনের সামনে প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ১৯৮৪ সাল
উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মো. রেজাউল করিম নিজাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে
১৯৮৪ সাল উল্লেখ করা প্রশ্নবিদ্ধ। বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
এবার প্রথম দুই বছর মেয়াদি
কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা
হলেন- কামরুজ্জামান বাচ্চু, মো. জলিলুর রহমান ও মো. অহিদুজ্জামান ডিউক।
সভাপতি প্রার্থী কামরুজ্জামান
বাচ্চু বলেন, তিনি অতীতে একাধিকবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচিত হলে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
বর্তমান সভাপতি ও প্রার্থী
মো. জলিলুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রেসক্লাবে মাত্র একটি চাবি ও দুটি চেয়ার
ছিল। তিন লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়েই দায়িত্ব নেন তিনি। তাঁর সময়ে প্রেসক্লাবের আসবাবপত্র,
সাজসজ্জা ও সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ঋণের অর্ধেক পরিশোধ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট
অংশ দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অপর সভাপতি প্রার্থী মো. অহিদুজ্জামান
ডিউক বলেন, তিনি বাউফল প্রেসক্লাবের চারবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর দায়িত্বকালেই (২০২২) দানবীর হাসিব আলমের কাছ থেকে ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ এনে আধুনিক
ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিনি নির্বাচিত
হলে সম্প্রতি ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন এবিএম মিজানুর রহমান ও প্রভাষক মঞ্জুর মোরশেদ। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মনিরুজ্জামান হিরন।
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন,
দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ রেখে প্রেসক্লাবের মানোন্নয়নে কাজ করেছেন। পুনরায়
দায়িত্ব পেলে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
অপর প্রার্থী মনিরুজ্জামান
হিরন বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ নয়-প্রেসক্লাবের উন্নয়ন ও সাংবাদিকদের কল্যাণই তাঁর মূল
লক্ষ্য। ভোটারদের সমর্থন পেলে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কার্যনির্বাহী ১১পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা
বলেন, বাউফল প্রেসক্লাব নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক নির্বাচনী
আমেজ। ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে-এমন প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের।
উল্লেখ্য বাউফল প্রেসক্লাবে
এছাড়াও বিগত দিনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, আমিরুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন খান, অতুল
পাল, আল মামুন, দেলোয়ার হোসেন, হারুন খান ও সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন,
ইমরান হাসান সোহেল ও এবিএম মিজানুর রহমান।