এম, সাইদুর রহমান (বাউফল) পটুয়াখালী-
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের তিন কিলোমিটার দীর্ঘ দুইটি সলিং সড়কের ২৫ বছর ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়ক ব্যবহার করছেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
সরেজমিনে জানা গেছে, আনারকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজাপুর মাতব্বর বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এবং পূর্ব কাছিপাড়া দারুন সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে দেওপাশা বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক গত ২৫ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া পায়নি। বর্ষা মৌসুমে সড়ক দুটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক দুটি বড় বড় গর্ত, খানাখন্দে ভরা। অনেক জায়গায় সলিং ইট সরে গিয়ে রাস্তার দুপাশের মাটিও ধসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে পিচ্ছিল হয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন আনারকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কাছিপাড়া দারুন সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা, আনারশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাতিলাপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, শহীদ জালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রওজাতুল জান্নাত নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে কাছিপাড়া, দেওয়াপাশা, আনারকলি, বীরপাশা ও রাজাপুর মাতব্বর বাজারসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষার্থী ও পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আনারকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (হারুন) বলেন-গুরুত্বপূর্ণ এই দুইটি সড়কের দ্রুত সংস্কার স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত জরুরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কথা হলে পটুয়াখালী জেলা প্রকৌশলী মোঃ হোসেন আলী মীর জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি সড়কের সংস্কারের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, আশা করছি খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতের এ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।