বাউফল (পটুয়াখালী)সংবাদদাতা
:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পারিবারিক
বিরোধকে কেন্দ্র করে মেয়ের জামাইয়ের হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন-আব্দুস সাত্তার (৬০),
তাঁর স্ত্রী হেলেনা বেগম (৫০) এবং মেয়ে হাফসা বেগম (২১)। হামলার পর স্থানীয়রা আহতদের
উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী হাফসা বেগমকে নিতে স্বামী ইকবাল হোসেন মিরাজ
(৩০) শশুর বাড়িতে আসেন। হাফসা তাঁর সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি চুল
ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর শুরু করেন। এসময় মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শ্বশুর আব্দুস
সাত্তারের মাথায় আঘাত করেন মিরাজ। পরে হাফসার মা হেলেনা বেগম সন্তানকে বাঁচাতে গেলে
তাকেও কাঠের রুয়া দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং বাম হাত ভেঙে যায়।
আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করে
বলেন, মেয়েকে অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, বারবার বুঝিয়েছি সংসার
টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু সে ঢাকা সাভারে মেয়েকে রেখে নির্যাতন করে আসছে। সহ্য করতে না
পেরে মেয়েটা আমার বাড়িতে ফিরে আসে। আজ মিরাজ নিতে এসে না যাওয়ায় এভাবে হামলা করেছে।
তার সাথে আমাদের গ্রামের লিটনও সহযোগিতা করেছে। জমিজমা নিয়ে পূর্বের বিরোধের প্রতিশোধ
নিতে সে মিরাজকে উসকে দিয়েছে।
হেলেনা বেগম বলেন, আমার মেয়কে
বাঁচাতে গেলে মিরাজ কাঠের রুয়া দিয়ে আমাকে মাথায় আঘাত করে আমার মাথা ফেটে ফিংকি দিয়ে
রক্ত বের হয়। আমি হাতদিয়ে মাথার রক্ত থামাতে গেলে সে আমার বাম হাতে বাড়ি মেরে ভেঙে
ফেলে। আমার বাড়ির লিটনও তাকে লাঠি এগিয়ে দেয়।
হাফসা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে
জানান, স্বামী আগে থেকেই আমাকে মারধর করত। শ্বশুরবাড়ির সবাই মানসিক নির্যাতন করত। গরিব
পরিবার হওয়ার কারণে বাবা-মা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আজ আমাকে জোর করে নিয়ে যেতে
চাইলে আমি না বলায় আমাকে এবং আমার বাবা মাকে মারধর করেছে।
এ ঘটনায় মামলা হবে কি না জানতে
চাইলে হাফসা বলেন, আগে সুস্থ হই, তারপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেব।
অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মিরাজের
মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিল বন্ধ পাওয়া গেছে।
একই বাড়ি লিটনকে মুঠফোনে ফোন
দিলে তিনি বলেন-মারামারি হয়েছে, আমরা তাদেরকে রক্ষা করতে গেলে তারা আমাদেরকে বাজে
ভাষায় অনেক গালাগালি করত তাই যাইনি। তবে লাঠি এগিয়ে দেওয়ার কথা সঠিক না।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক
ডা. মাশরাফুল ইসলাম সৈকত বলেন, বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে আহতরা হাসপাতালে আসেন। তিনজনকে
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক
(তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শুনেছি। পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।