বাউফলে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, ন্যায়বিচার চান জমির দাবিদার

Date: 2026-05-19
news-banner

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের মধ্য পশ্চিম কনকদিয়া চুনারপোল জামে মসজিদের নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে জমি বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিরোধীয় জমির দাবিদার মো. শাহ আলম হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারার নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি মহলের সহায়তায় মসজিদের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শাহ আলম হাওলাদার বলেন, তিনি মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা তার নিজস্ব জমির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। তার দাবি, বিভিন্ন সালিশ বৈঠকে তাকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তার কাঠের দোকান যে স্থানে ছিল, সেই জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে অন্যত্র জমি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, “আমার দোকান যেখানে ছিল, আমি সেই জায়গাটিই চাই। কিন্তু বিভিন্ন সময় আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। সামাজিকভাবেও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে।”
শাহ আলমের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাতের আঁধারে তার কাঠের তৈরি দোকান ভেঙে ফেলা হয় এবং পরে ওই স্থান মসজিদের নামে দখলে নেওয়া হয়। এরপর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন থাকলেও আদালতের নির্দেশনার যথাযথ প্রতিফলন না ঘটিয়ে পাকা ভবনের নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাদীপক্ষের ভাষ্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও অর্থের প্রভাবে বিরোধীয় জমিতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
শাহ আলমের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করছেন না। তারা শুধু তাদের দাবি করা সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চান। আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সমাধান প্রত্যাশা করছেন বলেও জানান তারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জমি বিরোধে আইন ও আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ যেন হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মো. শাহ আলম হাওলাদার ও তার পরিবার। তারা আশা করছেন, আদালতের নির্দেশনা ও প্রকৃত মালিকানার ভিত্তিতে বিরোধের ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধান হবে।

Leave Your Comments