বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
Date: 2026-10-06
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৬, ২০২৬, ১১:০৪ এ.এম
বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আদায় ও শিক্ষক বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের ছুটি অনুমোদন, টাইম স্কেল, অডিট খরচ, স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ এবং শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি উপজেলার ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তবর্ণের চার্ট সরবরাহের নামে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাজারে এসব চার্টের মূল্য প্রায় ৭০০ টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা করে মোট প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ কেনার কথা থাকলেও শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই এসব চার্ট সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ ছাড়া স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে উৎকোচ এবং গত জুনে ‘জুন ফাইনাল’-এর কথা বলে আরও ১ হাজার ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষক বদলি নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। একাধিক শিক্ষক দাবি করেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে পেছনের তারিখ দেখিয়ে অন্তত ছয়জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধাউড়াভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত সুলতানাকে দুমকির নলদোয়ানী পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির সুপারিশের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তারা।
এ ছাড়া ডেপুটেশন, মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যুক্তবর্ণের চার্ট বিদ্যালয়গুলোর মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতেই সরবরাহ করা হয়েছে এবং এ জন্য কোনো অতিরিক্ত বা জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হয়নি।
বদলি, ডেপুটেশন ও ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, সব কার্যক্রম সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ করেই করা হয়। অর্থের বিনিময়ে বদলি বা ছুটি অনুমোদনের কোনো সুযোগ নেই। অফিসে অনুপস্থিতি ও শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত অফিস করেন এবং রুটিন অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more