বৃদ্ধার হাত ভাঙার অভিযোগে মা-সহ দুই শিক্ষিকা কারাগারে
Date: 2026-10-06
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৬, ২০২৬, ৩:১৫ পি.এম
বৃদ্ধার হাত ভাঙার অভিযোগে মা-সহ দুই শিক্ষিকা কারাগারে
অ-অ+
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদনে বাসাভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় এক বৃদ্ধার হাত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষিকা ও তাঁদের মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার স্মৃতি, তাঁর বোন শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনী এবং তাঁদের মা মিলন আক্তার। গত রোববার বিকেলে মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরপুর কোর্ট ভবন এলাকায় বসবাসকারী সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেলের শাশুড়ি ক্যানসারে আক্রান্ত রোকেয়া বেগম পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এলাকায় নিজ বাসায় থাকেন। তাঁর মেয়ে শিক্ষিকা নুসরাত জাহান নিয়মিত মাকে দেখতে সেখানে যাতায়াত করেন এবং মাঝেমধ্যে রাতেও মায়ের বাসায় থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার বিকেলে ভাড়াটে হাফছা আক্তারকে নিজেদের বাসায় নেওয়ার জন্য আফরোজা আক্তার স্মৃতি, লায়লা আক্তার লাবনী ও তাঁদের মা মিলন আক্তার জোরপূর্বক ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় নুসরাত জাহান ও তাঁর মা রোকেয়া বেগম বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে রোকেয়া বেগমের হাত ভেঙে যায় এবং নুসরাত আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে নুসরাতের স্বামী ও প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল বাদী হয়ে মদন থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নুসরাত জাহান অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় বাসায় ভাড়াটে ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, তাঁদের ভাড়াটেকে অন্য বাসায় নেওয়ার জন্য মারধর করা হচ্ছে। তিনি ও তাঁর মা বাধা দিলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং তাঁর মায়ের হাত ভেঙে যায়।
নুসরাত আরও দাবি করেন, এর আগেও বাসাভাড়া নিয়ে লায়লা আক্তার লাবনীর সঙ্গে স্কুলে তাঁর তর্কাতর্কি হয়েছিল। পরে প্রধান শিক্ষকের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের স্বজনদের দাবি, এটি দুই পরিবারের মধ্যে বাসাভাড়া নিয়ে সৃষ্ট ঝগড়ার ঘটনা। তাঁদের দাবি, একতরফাভাবে কোনো হামলা হয়নি; হাতাহাতির সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে বৃদ্ধা আহত হয়েছেন। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় করে আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার জানান, বাসাভাড়া নিয়ে আগেও লায়লা আক্তার লাবনী ও নুসরাত জাহানের মধ্যে স্কুলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আবেদনের ভিত্তিতে লায়লাকে তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পচিকা মহিম স্মরণিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীনা বালা তালুকদার জানান, আফরোজা আক্তারের আত্মীয়স্বজন তাঁর ছুটির আবেদন নিয়ে এলেও তিনি তা অনুমোদন করেননি। তিনি স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না; সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, মামলার পর এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more