পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার পুরাতন হাসপাতাল এলাকায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়সংলগ্ন সরকারি জায়গা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করলেও তা পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এতে মশার প্রজনন ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকার দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অথচ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়ের সামনেই এমন পরিবেশ বিরাজ করায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন হাসপাতাল এলাকার ওই সরকারি জায়গায় ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। চারপাশে গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে জায়গাটি অনেকটা জঙ্গলের রূপ নিয়েছে। কার্যালয়টির বারান্দায় লেপ-তোশক তৈরির মালামাল রাখা রয়েছে। অফিসটি তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আশপাশে বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশেই রয়েছে রাজ্জাকের রুটির দোকান। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ চলাচল করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিনকে তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না। এমনকি কার্যালয়টির সামনে কোনো সাইনবোর্ডও নেই। ফলে সাধারণ মানুষ সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। বন্যার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তিনি সেখানে বসেন না। মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণেও অফিসে নিয়মিত বসা হয় না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, কার্যালয়টি মেরামত করা প্রয়োজন। এ কারণে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর কক্ষে বসে কাজ করেন। কার্যালয়টি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নির্ধারিত কার্যালয়টি তালাবদ্ধ দেখা যায়। হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোথায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না। তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করেন বলে শুনেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের আশপাশেই যদি ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষকে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁদের মতে, হাসপাতাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন বা অন্য কোথাও পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি ঝোপঝাড় পরিষ্কার, পানি জমার স্থান শনাক্ত এবং নিয়মিত তদারকি জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরকারি জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়টি সংস্কার করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more