বন্যা ও পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ
Date: 2026-07-17
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ৪:২৬ এ.এম
বন্যা ও পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ইতোমধ্যে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি জেলা হলো—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার মোট ৫৭টি উপজেলা, ৩৬২টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভা বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। বন্যা ও পাহাড় ধসের বিভিন্ন ঘটনায় জেলাগুলোতে নতুন করে আরও ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগে এ পর্যন্ত যে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উপকূলীয় ও পাহাড়ঘেরা জেলা কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে মোট ৩২ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়া অন্যান্য জেলার মধ্যে চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্গত এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য ইতিমধ্যে ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে স্থানীয় প্রশাসন, যেখানে বর্তমানে ৮৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত জেলাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দুর্গতদের সহায়তায় নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশ কিছু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more