চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার রায় প্রকাশ

Date: 2026-03-03
news-banner

অনলাইন ডেক্স:
রাজধানী ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর দেওয়া ১৬৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে মামলার তদন্ত ও উপস্থাপনায় একাধিক অসংগতি তুলে ধরা হয়েছে। অস্ত্র ও গুলির হিসাব, ভিডিও ফুটেজের সীমাবদ্ধতা এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও অন্তত ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি না করার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাইব্যুনাল। তিন কনস্টেবলের সাক্ষ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং সাবেক তিন কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চার আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি চারজন পলাতক।
রায়ের সমাপনী অংশে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আদালতে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মাকে লেখা চিঠি পাঠের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে, বিচারের নামে নিরপরাধ কাউকে শাস্তি দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি অপরাধীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তিও সমীচীন নয়। আদালতের মতে, প্রদত্ত সাজা ন্যায়বিচারের লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট।
অমীমাংসিত প্রশ্ন শিরোনামে রায়ের একটি অংশে ট্রাইব্যুনাল তদন্তের ঘাটতি তুলে ধরে। প্রসিকিউশনের সাক্ষী তিন কনস্টেবলের নামে ইস্যুকৃত অস্ত্র-গুলির রেকর্ড, তা ফেরত দেওয়ার হিসাব এবং অভিযানে অংশ নেওয়া অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রেজিস্টার অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেক সদস্যের অস্ত্র-গুলির কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিন কনস্টেবলের কার্যকলাপের ভিডিও থাকলেও অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকার ভিডিও অনুপস্থিত। এছাড়া রমনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অবস্থান সম্পর্কেও মামলায় সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
রায়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অসংগতি সত্ত্বেও ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার দায়ে হাবিবুর, সুদীপ ও আখতারুলকে প্রধানত দায়ী মনে হয়েছে। অন্য আসামিরা তাঁদের সম্পৃক্ততার মাত্রা অনুযায়ী দায়ী হলেও সবাইকে সরাসরি হত্যাকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায় না।
সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, গুলিবর্ষণ ছিল ব্যাপক ও নির্বিচার। ভিডিওতে এক আসামিকে গুলি চালাতে দেখা গেলেও নির্দিষ্ট কার গুলিতে কে হতাহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে সম্মিলিত গুলিবর্ষণের ফলেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে আদালত অভিমত দিয়েছেন।
 
তথ্য-বিডিপ্রতিদিন
বিডিফেস/সুমাইয়া শিমু

Leave Your Comments