মানুষের দেহে প্লাস্টিক জমে তৈরী হচ্ছে টিউমার

Date: 2026-03-03
news-banner

অনলাইন ডেক্স:
মানুষের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শুধু রক্ত বা মস্তিষ্ক নয়-ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতেও পৌঁছে যাচ্ছে প্লাস্টিকের অতি সূক্ষ্ম কণা। এমনকি প্রস্টেট ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের টিউমার কোষেও মিলেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক।
আমেরিকার গবেষকদের এক সমীক্ষায় জানা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্টেট ক্যানসার রোগীর রক্ত ও টিউমার টিস্যুতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে এই কণা জমতে থাকলে তা টিউমার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া সিডিসি-এর এক বিশ্লেষণেও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। টিউমার কোষের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, প্রতি গ্রাম কোষে গড়ে ৪০ মাইক্রোগ্রামেরও বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার রক্তে প্রবেশ করলে এই কণা সহজেই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। কারও রক্তে মিলেছে পিইটি (পানির বোতলে ব্যবহৃত), কারও ক্ষেত্রে পলিস্টাইরিন (খাবারের প্যাকেট ও কন্টেনারে ব্যবহৃত), আবার কারও শরীরে পলিইথাইলিন (প্লাস্টিক ব্যাগে ব্যবহৃত)। অনেকের শরীরে একাধিক ধরনের প্লাস্টিকের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে। তবে এসব কণা কীভাবে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ব্যবহার্য পানির বোতল, খাদ্যপ্যাকেট, দুধের প্যাকেজিং, প্রসাধনী ও ওষুধের প্লাস্টিক কন্টেনার থেকে ধীরে ধীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। ৫০ মাইক্রনের নিচের প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
গবেষকদের সতর্কবার্তা, দীর্ঘমেয়াদে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে থাকলে ক্যানসারের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এমনকি ইনসুলিন ক্ষরণে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যানসারের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। তবুও সতর্কতা হিসেবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং বিকল্প উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
 
তথ্য- বিডিপ্রতিদিন
বিডিফেস/সুমাইয়া শিমু

Leave Your Comments