প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৪:৩৯ এ.এম
দীর্ঘ ৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল
অ-অ+
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’। একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের অনন্য ভূমিরূপ, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, লাল কাঁকড়ার চর, লেম্বুর বনের সবুজ প্রকৃতি এবং স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে দীর্ঘ ৯ বছর পর এই মেগা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের পরদিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর পুরো সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখতে ‘ক্লিন কুয়াকাটা’ কর্মসূচি পালিত হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কার্নিভালের প্রথম দিন ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টায় বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান। প্রথম দিনের আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিচ ফুটবল, লেম্বুর বনে ঘুড়ি উৎসব, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা, নৃত্য, ফ্যাশন শো এবং কমেডি অনুষ্ঠান। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দিন ২৪ অক্টোবর ভোর ৫টায় জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতির চর পর্যন্ত বিচ ম্যারাথন, ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে গঙ্গামতির চরে সূর্যোদয় দর্শন, পিঠা উৎসব, চর বিজয় অভিমুখে যাত্রা এবং ভলিবল ও সেলিব্রেটি বিচ ক্রিকেটের মতো রোমাঞ্চকর ইভেন্টগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে বর্ণিল আতশবাজির মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে কেবল সমুদ্রসৈকতের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। পর্যটকদের জন্য চর বিজয়, ফাতরার চর, গঙ্গামতি ও হরিণঘাটাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় রাখাইন সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক এবং হস্তশিল্প প্রদর্শনের জন্য প্রায় ৩০টি স্টল স্থাপন করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কার্নিভালে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে এবং এটি কুয়াকাটায় নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বড় ধরনের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ৮০০ পুলিশ সদস্য, আটটি চেকপয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক, শতাধিক বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চারটি মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে কুয়াকাটার পর্যটন খাতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং পর্যটকদের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more