এম. সাইদুর রহমান, বাউফল
(পটুয়াখালী) থেকে,
পটুয়াখালীর বাউফলে দ্রুত
হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার শীতকালীন ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ-সুস্বাদু খেজুরের রস। একসময়
শীত এলেই খেজুর গাছিদের ব্যস্ত সময় কাটত। সকাল-বিকাল প্রতিযোগিতা হতো কে বেশি রস সংগ্রহ
করতে পারে, কার রস আগে ফুটে পাটালি হবে-এসব নিয়েই ছিলো গ্রামবাংলার প্রাণচাঞ্চল্য।
এখন সেই দৃশ্য কেবলই স্মৃতির পাতায়।
বর্তমানে বাউফলের গ্রামগঞ্জে
খেজুর গাছ খুব কমই চোখে পড়ে। খেজুর গাছিদের আর নেই আগের মতো তাড়া বা উৎসাহ। রস সংগ্রহের
প্রতিযোগিতাও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অতীতে শীত মৌসুমে গ্রামের পুরুষরা খেজুর গাছ ‘ছিলানো’
বা ‘কাটা’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। নতুন নবান্নের মৌসুমকে কেন্দ্র করে খেজুর রসের পিঠা-পায়েস,
পাটালি গুড় আর বিভিন্ন মিষ্টান্ন ছিলো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাদ্য।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা
বলে জানা যায়, প্রায় ১৫–২০ বছর আগেও বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার খেজুর গাছ থেকে রস
সংগ্রহ করা হতো। গাছিরা শীত মৌসুমজুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
কিন্তু সময়ের সাথে খেজুর গাছের সংখ্যা কমতে শুরু করে।
প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়
সিডর ও আইলার তাণ্ডবে এলাকার অসংখ্য গাছের মতো খেজুর গাছও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক
গাছ উপড়ে পড়ে বা মারা যায়। এছাড়া এক শ্রেণির ইটভাটা মালিক খেজুর গাছ ইট পোড়ানোর কাজে
ব্যবহার করায় দ্রুত কমে যায় এই মূল্যবান গাছ। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাছ কাটার ফলে গত দুই দশকে খেজুর গাছের সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়।
এ কারণে বাউফলে এখন খেজুর
রস পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। নেই আগের মতো নবান্নের উৎসবমুখরতা। খেজুর রসের পিঠা-পায়েস
বা পাটালি গুড়ের স্বাদও আজ প্রায় বিলুপ্ত। স্থানীয়রা বলছেন, রস না পাওয়ায় নবান্নের
ঐতিহ্য ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
প্রবীণরা জানান, “একসময়
পুরো শীতজুড়ে খেজুর রসের রাজত্ব ছিলো। এখন সেই গন্ধ, সেই স্বাদ আর নেই। বাচ্চা প্রজন্ম
জানেই না আসল খেজুর রস কেমন!” খেজুরের গাছ রক্ষা ও চাষ বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ
ও স্থানীয় উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।