দুই উপদেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ

Date: 2025-11-24
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি আমেজ তৈরির সময়, তখন অন্তর্র্বতী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ আর মাত্র তিন মাস। গত দেড় বছরে সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা-দুই বিষয় নিয়েই আলোচনার অবকাশ থাকলেও, দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে ঘিরে বিতর্ক রয়েই গেছে শুরু থেকে।

সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও উভয় উপদেষ্টা পদত্যাগ করেননি। বরং তাদের একজন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন-তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞদের মত, নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতে নির্বাচন করা নৈতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিতর্কিত এই উপদেষ্টারা যদি বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে সেই দলও বিতর্কিত হবে। এতে সরকার এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য হতে পারে বড় রাজনৈতিক সংকট।

তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আছে নানা অভিযোগ-

একজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে বিতর্ক, নিজ এলাকায় অস্বাভাবিক বরাদ্দ, এবং পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অন্য উপদেষ্টা ফেসবুকে দেয়া বিতর্কিত মন্তব্য, টেলিভিশন লাইসেন্স কেলেঙ্কারি, এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি-তিন দলই সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিএনপি ‘দলঘনিষ্ঠ’ উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে। জামায়াত অভিযোগ করেছে-কিছু উপদেষ্টা বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন। এনসিপি প্রয়োজন হলে দল-নির্বিশেষে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে।

নির্বাচন সামনে, চাপে সরকার-

আগামী তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে সরকারকে সম্পূর্ণ নির্বাচনী সরকার হিসেবে কাজ করতে হবে-যেখানে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নয়, শুধু রুটিন দায়িত্ব পালনই নিয়ম। এমন অবস্থায় সরকারের একজন উপদেষ্টার পক্ষ থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত এই উপদেষ্টারা যে দলেই যোগ দিক না কেন-দলের ওপর বর্তাবে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের দায়। এতে দলে যেমন বিভাজন তৈরি হতে পারে, তেমনি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্টভাবে জানানো উচিত-তারা এসব ব্যক্তিকে দলে নেবে না। না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনীতির ওপর।

তথ্যসূত্র: বিডিপ্রতিদিন

Leave Your Comments