ইরানের হরমুজ দ্বীপ, আতঙ্ক নয়-প্রাকৃতিক ঘটনা

Date: 2025-12-17
news-banner

বিশ্ব ডেস্ক:

ভারী বৃষ্টির পর ইরানের পারস্য উপসাগরের হরমুজ দ্বীপ হঠাৎ করেই রক্তিম লাল রঙে ঢেকে গেছে। এক রাতের মধ্যেই দ্বীপটির সৈকত ও অগভীর সমুদ্রের পানি গাঢ় লাল আভা ধারণ করে। বিরল এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি কোনো অস্বাভাবিক বা বিপজ্জনক ঘটনা নয়; বরং পুরোপুরি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল। হরমুজ দ্বীপের মাটি ও পাথরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড বা লোহাজাত খনিজ রয়েছে। বিশেষ করে হেমাটাইট নামের একটি খনিজের আধিক্যের কারণে দ্বীপটির মাটি স্বাভাবিকভাবেই লালচে রঙের।

বৃষ্টির পানি যখন এই লোহা-সমৃদ্ধ মাটির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন লোহাজাত কণাগুলো পানির সঙ্গে মিশে উপকূল ও অগভীর সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলেই সৈকত ও পানির রঙ গাঢ় লাল হয়ে ওঠে।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, যেসব এলাকায় মাটির ক্ষয় বেশি, সেখানে এই লাল রঙ আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আর্দ্র পরিবেশে হেমাটাইট দ্রুত অক্সিডাইজড হয়-অর্থাৎ লোহা ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। এই একই খনিজের উপস্থিতির কারণেই মঙ্গল গ্রহকে ‘লাল গ্রহ’ বলা হয়।

হরমুজ দ্বীপ অনেকের কাছে ‘রেইনবো আইল্যান্ড’ বা রঙধনু দ্বীপ নামেও পরিচিত। এখানে লাল ছাড়াও হলুদ, কমলা ও বিভিন্ন বর্ণের মাটি দেখা যায়, যা হাজার হাজার বছরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় গঠিত।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, এই লাল জোয়ার কোনো ধরনের দূষণ নয় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকরও নয়। বরং এটি দ্বীপটির অনন্য খনিজ গঠনের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এ কারণেই হরমুজ দ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানী ও পর্যটকদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

তথ্য- বিডি প্রতিদিন

Leave Your Comments