গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ বক্সে আগুন
নভেম্বর ০১, ২০২৬, ৫:৪৮ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০১, ২০২৬, ৫:৪৮ এ.এম
গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ বক্সে আগুন
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের এক দফা দাবিতে গাজীপুরে আবারও তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শত শত শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের একটি অংশের হামলায় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গতকাল শনিবার রাতেও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমি এলাকায় দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন শ্রমিকেরা। সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দিলেও আজ রোববার সকাল থেকে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো শিল্পাঞ্চল।
আজ সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে হাজিরা দিয়ে সরাসরি সড়কে নেমে আসেন। রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা হাতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার মানুষেরা।
এদিকে আন্দোলন চলাকালীন গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশ বক্সের ভেতরের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল বাইরে টেনে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। সহিংসতার এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে বিজিবির সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানান তিনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more