প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৬, ২০২৬, ২:১৮ এ.এম
গ্যাসের তীব্র সংকট সহসা কাটছে না
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনায় সৃষ্ট গ্যাস সংকট সহসা কাটছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ভাসমান টার্মিনালটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
রাজধানীর কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও চুলার আগুন একদম নিভু নিভু, আবার কোথাও চুলা একেবারেই জ্বলছে না। গ্যাসের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বাধ্য হয়ে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা কিনছেন বা ইট দিয়ে অস্থায়ী মাটির চুলা তৈরি করে লাকড়ি দিয়ে রান্না সারছেন। এছাড়া সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ গাড়ির লাইন তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি চালু করা গেলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হতো। গত বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল টার্মিনালটি মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কারিগরি দল কাজ চালিয়ে গেলেও টার্মিনালটি এখনো চালুর উপযোগী করা যায়নি। কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে, তবে সুনির্দিষ্ট করে এখনই কোনো সময় বলা যাচ্ছে না।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে গত বছর থেকে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার পর সরবরাহ কমে ২১ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। গ্যাস সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বিদ্যুৎ খাতে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কমে গেছে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা, রান্নার কাজ এবং পরিবহনের সিএনজি খাতেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। ইতিমধ্যে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমার কারণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছিল। স্থলভাগে আরেকটি বিকল্প টার্মিনাল থাকলে এই ধরনের আকস্মিক সংকট এড়ানো সম্ভব হতো।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more