প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২২, ২০২৬, ৬:৪৭ এ.এম
গ্যাস-তেল সংকট: বিপাকে শিল্প খাত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় গ্রিডে তীব্র গ্যাস-সংকট এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিল্প খাতের স্বাভাবিক উৎপাদন। চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসায় কারখানা সচল রাখতে তৈরি পোশাক, ওষুধ ও ইস্পাতের মতো প্রধান প্রধান খাতের উদ্যোক্তারা বিকল্প হিসেবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও ফার্নেস তেল ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে ফার্নেসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও বাড়তি জ্বালানি ব্যবহার করায় রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন চাপ। বিক্রি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল থেকে ফার্নেস ও ডিজেলের বিক্রি অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে এবং তালিকাভুক্ত ৫০০ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কারখানা স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি তেল উত্তোলন করছে।
বিকল্প এই জ্বালানি ব্যবহারে শিল্প রক্ষা পেলেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ। ইস্পাত ও ওষুধ খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে মূল গ্রিডের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে, যার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামগ্রিক জ্বালানি খরচ ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মোট উৎপাদন ব্যয় ঠেকেছে চার গুণে। এর সাথে ঘন ঘন জেনারেটর সার্ভিসিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পুরো ব্যাচ নষ্ট হওয়ার মতো সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ক্ষতি যোগ হচ্ছে। যদিও পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে যে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও আমদানি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন এলএনজি কার্গো এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তেলের এই অতিরিক্ত খরচ বহনে বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার গভীর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পপতিরা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more