জামায়াত থেকে স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও লংমার্চে ভিন্ন কৌশল এনসিপির
অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ২:২২ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ২:২২ এ.এম
জামায়াত থেকে স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও লংমার্চে ভিন্ন কৌশল এনসিপির
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিলেও, নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নীতিনির্ধারক ও অভ্যন্তরীণ মহলের মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, বড় পরিসরের যৌথ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার ফলে জনমনে দলটির নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব অনেক সময় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় দলটি নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আলাদা পরিচিতি জোরালো করার কৌশল হাতে নিয়েছে।
এই কৌশლის অংশ হিসেবেই ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চের ঠিক আগের দিন ঢাকায় নিজস্ব উদ্যোগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছে দলটি। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দুই থেকে তিন হাজার মানুষের সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি সফল করতে ধারাবাহিক প্রচারপত্র বা লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসব প্রচারণায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারা সরবভাবে অংশ নেন।
চট্টগ্রাম ও রংপুরের পর আগামী শনিবার খুলনা বিভাগে ১১ দলের লংমার্চের গাড়িবহর যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে আগের দুটি লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতারা সর্বশক্তি নিয়ে অংশ নিলেও, এবারের খুলনা লংমার্চে দলটির অংশগ্রহণ তুলনামূলক প্রতীকী রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে প্রকাশ, পূর্ববর্তী লংমার্চগুলোতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ পুরো শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকলেও এবার প্রতিনিধি হিসেবে কেবল দু–একজন নেতা যেতে পারেন; যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলমের নাম আলোচনায় রয়েছে। যদিও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে লংমার্চে যোগদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তিনি ১১ দলের বৈঠকে অংশও নিয়েছেন, তবুও এনসিপির একাংশের মধ্যে কিছুটা সাংগঠনিক দূরত্ব বজায় রাখার চিন্তাভাবনা কাজ করছে।
এদিকে, লংমার্চের ঠিক আগমুহূর্তে স্বতন্ত্র এই গণবিক্ষোভ আয়োজনকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন দলটির নেতারা। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের মতে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলটির প্রার্থী থাকা এবং মহানগর কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জনসম্পৃক্তমূলক এসব স্বতন্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। এর সঙ্গে জোটগত লংমার্চের কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই বলে দাবি করা হয়। সর্বসাকুল্যে, জামায়াতের সঙ্গে আদর্শগত ও কাঠামোগত ভিন্নতা পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা ও স্বতন্ত্র অবস্থান জনসমক্ষে জোরালোভাবে তুলে ধরাই এখন এনসিপির অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারণী লক্ষ্য।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more