জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও দেশে ফিরে আসা

Date: 2025-11-18
news-banner

বিনোদন ডেক্স:

১২ বছর বয়সে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ সিনেমার একটি গানে কণ্ঠ দিয়ে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন রুনা লায়লা। অল্প বয়সেই পশ্চিম পাকিস্তানের সংগীতজ্ঞদের মন জয় করেন তিনি। নিয়মিত হন চলচ্চিত্রের গানে এবং দ্রুতই হয়ে ওঠেন পশ্চিম পাকিস্তানের শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠস্বর।

স্বাধীনতার পর যখন রুনা লায়লা বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তখন পাকিস্তানে তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। সরকারও চেয়েছিল তাকে ধরে রাখতে। কিন্তু জন্মভূমির টানে সবকিছু তুচ্ছ করে দেশে চলে আসেন তিনি।

বাংলাদেশে ফিরে সংগীত পরিচালক সত্য সাহার হাত ধরে শুরু হয় তার নতুন যাত্রা—যে পথের প্রতিটি পদক্ষেপই পরিণত হয়েছে ইতিহাসে।

‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’ থেকে ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’—সুরের নেশায় পুরো বিশ্বকে আজীবন মোহিত করে রেখেছেন তিনি।

১৮ ভাষায় ১০ হাজার গান-

বাংলা, উর্দু, হিন্দি সহ ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন রুনা লায়লা। পৃথিবীর বড় বড় প্রায় সব শহরে তিনি ছড়িয়েছেন তার সুরের জাদু—যেখানে গেছেন, সেখানেই সৃষ্টি করেছেন শ্রোতামুগ্ধতা।

সমালোচককে ভক্তে পরিণত করার গল্প-

ভারতের প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক ও সম্পাদক খুশবন্ত সিং ছিলেন তার তীব্র সমালোচক। উদ্দেশ্য ছিল সমালোচনা করার, তাই একদিন তিনি গেলেন রুনা লায়লার কনসার্ট দেখতে।

কিন্তু সেদিন কিছুই বললেন না। পরদিন নিজের পত্রিকায় পূর্ণ পৃষ্ঠা লিখলেন রুনা লায়লার প্রশংসায়।

তার লেখা বিখ্যাত বাক্য—

“রুনাকে দিয়ে দাও, বিনিময়ে ফারাক্কার সব পানি নিয়ে যাও।”

তিনি আরও লিখেছিলেন,

“রুনার গান শুধু শোনার নয়, দেখারও বিষয়।”

কাশ্মীরে হাসপাতাল নির্মাণে রুনা লায়লার অবদান

কাশ্মীরের মানুষ আজও রুনা লায়লার জন্য দোয়া করেন—কারণ তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম।

১৯৭৭–৭৮ সালের দিকে কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ তাকে ব্যক্তিগত চিঠি লিখে অনুরোধ করেন শ্রীনগরে একটি হাসপাতালের জন্য তহবিল গঠনে সাহায্য করতে।

রুনা লায়লার জবাব ছিল—

“এত ভালো কাজের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

তার সম্মানে আবদুল্লাহ পরিবার লাল গালিচা দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়, অতিথিশালায় রাখে, আর দুই দিনের দুটি বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করে—একটি মিলনায়তনে, আরেকটি স্টেডিয়ামে।

স্টেডিয়ামে তার নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল ১৪০০ মাউন্টেন পুলিশ।

আজও কলকাতায় কাশ্মীরি শাল বিক্রেতারা তাকে চিনে বলেন—

“আপনি আমাদের জন্য যে হাসপাতাল করে দিয়েছেন, তাই আপনাকে দোয়া করি।”

Leave Your Comments