জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ৩৯ জন এখনো বিদেশে চিকিৎসাধীন
Date: 2026-07-17
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ৪:১৭ এ.এম
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ৩৯ জন এখনো বিদেশে চিকিৎসাধীন
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও, সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া হাজারো ছাত্র-জনতার শরীরে রয়ে গেছে বুলেটের ক্ষত। তাঁদের একটি বড় অংশ এখনো দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করছেন। সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলি ও সহিংসতায় দেশজুড়ে ৮каз জন বীর শহীদ হয়েছেন এবং ১৪ হাজার ৩৭০ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আন্দোলন শেষ হলেও আহতদের অনেকের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রকিব উদ্দিনের কথা বলা যায়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরের আজমপুরে আন্দোলন চলাকালে তিনি কোমরে গুলিবিদ্ধ হন। পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর এ পর্যন্ত তাঁর পায়ে ও কোমরে তিনটি বড় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে এরপরও তাঁর বাঁ পা ছোট হয়ে গেছে এবং তীব্র মাংসপেশির টানের কারণে রাতে স্বাভাবিক ঘুম হারিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমেও তাঁর শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
অভ্যুত্থানের পর থেকে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। আন্দোলনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে পঙ্গু হাসপাতাল, সিএমএইচ ও চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সেবা দেন। তবে স্থানীয় চিকিৎসায় পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব না হওয়ায় অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত গুরুতর আহত ১৫৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, রাশিয়া ও তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন সুস্থ হয়ে বা চিকিৎসা পর্ব শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো ৩৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের বাইরে রয়েছেন, যাদের প্রায় সবাই বর্তমানে থাইল্যান্ডে অর্থোপেডিক বিভাগে জটিল সেবা নিচ্ছেন। এই পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাষ্ট্রের তহবিল থেকে মোট ৩৪৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৯ হাজার ২০৭ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আঘাতের তীব্রতা, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও শারীরিক অক্ষমতা বিবেচনা করে আহতদের প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর। আহত সকল নাগরিককে সরকারি ও নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে নিখরচায় সেবা পাওয়ার জন্য একটি করে বিশেষ ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, সবচেয়ে মারাত্মকভাবে আহত বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার ব্যক্তিরা 'ক' শ্রেণিভুক্ত। চোখ নষ্ট হওয়া, অঙ্গহানি বা শরীরের কোনো বড় অঙ্গের স্থায়ী অকার্যকারিতার শিকার এমন ৯৯০ জনকে এককালীন ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কিন্তু স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হননি এমন ১,৪১৭ জন রয়েছেন 'খ' শ্রেণিতে, যারা এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়া সাধারণ বা মাঝারি ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত ১১,৯৬৩ জন 'গ' শ্রেণিভুক্ত নাগরিককে এককালীন ১ লাখ টাকা এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
বিপ্লবের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই আহত যোদ্ধাদের শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটেনি। রাষ্ট্রীয় ভাতা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ কিছুটা স্বস্তি দিলেও, তরুণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনে স্থায়ী পঙ্গুত্বের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও পেশাগত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more