প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ৪:২৩ এ.এম
মাদারগঞ্জে শিক্ষক-সংকটে ধুঁকছে প্রাথমিক শিক্ষা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা তীব্র শিক্ষক-সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এর এক চরম দৃষ্টান্ত, যেখানে গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, আর আশঙ্কাজনক হারে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে একতলা পাকা ভবন ও টিনশেডের পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং শ্রেণিকক্ষ থাকলেও নেই কোনো শিক্ষক। ৫টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৪টিই শূন্য। ২০১৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা আবদুল মমিনই এখন বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সর্বশেষ কর্মরত সহকারী শিক্ষকটি অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই ৭০ জন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
এককভাবে সব ক্লাস নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। একই চিত্র প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রেও। প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হলেও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক শিখনঘাটতিতে পড়ছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিক ইসলাম ও তামান্না আক্তার জানায়, শিক্ষক না থাকায় তারা প্রায়ই ক্লাসে অলস বসে থাকে।
যোগাযোগের চরম দুর্ভোগই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই চরাঞ্চলে আসার রাস্তাটি কাঁচা ও অনুন্নত হওয়ায় শিক্ষকেরা এখানে আসতে চান না। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল হলেও বর্ষায় কাদা-মাটিতে তা-ও চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
শিক্ষক-সংকটের প্রভাবে কমছে শিক্ষার্থী সংখ্যাও। স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মিয়া জানান, ৬-৭ বছর আগেও এই স্কুলে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী ছিল, যা এখন কমে ৭০ জনে নেমেছে। পড়াশোনা ঠিকমতো না হওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চাচ্ছেন না। অথচ এই এলাকা থেকে নিকটবর্তী অন্য বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংকট নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও লেখালেখির পর গত ৯ জুলাই শিক্ষা অফিস থেকে পাশের একটি স্কুল থেকে একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে মৌখিক আদেশে পাঠানো হয়েছে। তবে স্থায়ী কোনো পদায়ন এখনো হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যমতে, মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ২৩৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ১৪৮টি পদই শূন্য রয়েছে।
এই বিষয়ে জামালপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে সাময়িকভাবে একজন শিক্ষককে সেখানে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more