মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকি ক্লিনিক্যাল বর্জ্য

Date: 2026-01-07
news-banner

বিডিফেস ডেক্স:

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লিনিক প্যাথলজি ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালের সেন্টারগুলো মানুষের সেবা-সুস্থতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।  এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেড় হচ্ছে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। অথচ এই বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশে রয়েছে হুমকিতে। বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সংরক্ষিত এলাকায়।

ক্লিনিক্যাল বর্জ্য কি? 

ক্লিনিক্যাল বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহৃত প্লাসিট সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ, রক্তমাখা তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, অস্ত্রোপচারের পরিত্যক্ত উপকরণ, পরীক্ষাগারের রাসায়নিক দ্রব্য, ভাঙ্গা কাঁচ ব্যবহৃত  টিস্যু। এই বর্জ্য সরাসরি সংক্রমণ, মারাত্মক রোগ বিস্তার এবং পরিবেশ দূষণের অন্যতম এবং প্রধান উৎস।

জীবাণুমুক্তকরণে অটোক্লেভের ( উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রা) ভূমিকা-

স্বাস্থ্যসেবায় সংক্রমণ প্রতিরোধে অটোক্লেভ (অঁঃড়পষধাব) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ প্রয়োগ করে এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করা হয়।

হাসপাতালের সকল ধরনের সার্জিক্যাল যন্ত্র অটোক্লেভের মাধ্যমেই জীবাণুমুক্ত করা হয় থাকে।  একইভাবে ল্যাবরেটরির কাঁচের সামগ্রী ব্যবহার করার আগে অটোক্লেভ দ্বারা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ হাসপাতাল সরকারি বেসরকারি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত অটোক্লেভ ব্যবহার না হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলছে।

ফিউমিগেশন কোথায় ও কেন?

হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ঋঁসরমধঃরড়হ (ধোঁয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর জীব মারা ) জীবাণুনাশ একটি কার্যকর পদ্ধতি।

অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, সাধারণ ওয়ার্ড, ল্যাবরেটরি ও সংক্রমিত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফিউমিগেশন করা না হলে বাতাসের মাধ্যমে রোগ বাতাসে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ফিউমিগেশন না হলে অটোক্লেভ বা অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহারের সুফল প্রতিকার পাওয়া যায় না।

ক্লিনিক্যাল বা মেডিক্যাল বর্জ্য দাহক চুল্লির ব্যবহার- চিকিৎসা বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয় গবফরপধষ ডধংঃব ওহপরহবৎধঃড়ৎ (চিকিৎসা বর্জ্য দাহক চুল্লি)। এ পদ্ধতির মাধ্যমে সংক্রামক ও ক্ষতিকর বর্জ্য উচ্চ তাপে পুড়িয়ে ফেলা হয়। যে কারনে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু দেশের অনেক জেলা ও উপজেলায় এখনো কেন্দ্রীয় ইনসিনারেটর ব্যবস্থা না থাকায় এসব বর্জ্য খোলা জায়গা, ডাস্টবিন কিংবা জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরী করেছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব-

ক্লিনিক্যাল বর্জ্য থেকে হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, চর্মরোগসহ নানা ধরনের সংক্রামক রোগ মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে এসব বর্জ্য ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে। এছাড়া খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার ফলে শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে এবং বর্জ্য সংগ্রহকারীরা মারাত্মক সংক্রমণের শিকার হন প্রতিনিয়ত।

মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে- হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট বাধ্যতামূলক করে নিয়মিত অটোক্লেভ ও ফিউমিগেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া বিভাগীয় শহর, জেলা উপজেলাগুলোর সকল হাসপাতাল ক্লিনিকে মেডিক্যাল বর্জ্য ইনসিনারেটর স্থাপন জরুরি।

প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদার-

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত মনিটরিং হলে মানবদেহ ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। সময়োপযোগী পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলেও পারে ক্লিনিক্যাল বর্জ্যের হুমকি থেকে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাণীকুলে ধেঁয়ে আসা নিরব ঘাতক থেকে মুক্তি সম্ভব।

লেখক-তরিকুল ইসলাম মোস্তফা

Leave Your Comments