মশার দাপটে নাকাল রাজধানীবাসী, কিউলেক্স আতঙ্ক

Date: 2026-01-06
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

গত বছর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে মারা যান ৪১৩ জন। এডিসের প্রকোপ কিছুটা কমতে না কমতেই নতুন করে বেড়েছে কিউলেক্স মশার উপদ্রব। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মশা নিধনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও কার্যকর ফল মিলছে না। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, মশার প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত না করেই ওষুধ ছিটানোর কারণেই এই ব্যর্থতা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকায় প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বছরের পর বছর পরিষ্কার না হওয়া নালা, জলাবদ্ধ বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকা ঢাকাকে কিউলেক্স মশার জন্য আদর্শ প্রজননস্থলে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণে খাল ও বিলে স্প্রে করা হলেও অধিকাংশ খাল কচুরিপানায় ভরা থাকায় ওষুধ কার্যকর হচ্ছে না। কচুরিপানার ওপর ছিটানো ওষুধে মশা মারা যায় না।

এডিস মশার বিস্তার সম্পর্কে তিনি আরও জানান, ঢাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ এডিস মশার জন্ম হয় মাত্র তিনটি স্থানে-নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানিতে ৪৭ শতাংশ, বাড়ির নিচতলায় ১৭ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ১৫ শতাংশ। এসব নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, যাকে বলা হয় টার্গেট স্পেসিফিক মসকুইটো কন্ট্রোল। এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে আলাদা কৌশল প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে কিউলেক্স মশার কামড়ে রাজধানীবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়বে। কিউলেক্স মশা রোগ ছড়ায় না-এই ভুল ধারণার কারণে বিষয়টি অবহেলিত থাকলেও বাস্তবে এই মশাই ফাইলেরিয়া রোগের বাহক। মহাখালী আমতলী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে বসে থাকতে হয় মশার কামড়ে। পায়ে মোজা পরেও রেহাই নেই, হাত ও মুখে কামড়ে লাল গুটি হয়ে গেছে। কয়েল বা ইলেকট্রিক ব্যাট কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। তবে দুই প্রজাতির মশার আবাসস্থল ভিন্ন হওয়ায় পরিকল্পনাও আলাদা। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখা ও সচেতন হওয়াও জরুরি।

তথ্য-বিডি প্রতিদিন/এম ডিউক

Leave Your Comments