মৃত্যুকে হার মানানো জেলিফিশ

Date: 2025-12-22
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

উষ্ণ সমুদ্র অঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের অদ্ভুত জেলিফিশ বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। কারণ, এই জেলিফিশ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পারে। সাধারণ প্রাণীর মতো বয়স শেষে মারা না গিয়ে এটি নিজের জীবনচক্র উল্টে দিয়ে আবার নতুন করে জীবন শুরু করে।

এই ব্যতিক্রমী জেলিফিশের নাম টারিটোপসিস ডোরনি (ঞঁৎৎরঃড়ঢ়ংরং ফড়যৎহরর)। আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এই প্রাণীর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাত্র প্রায় ৪.৫ মিলিমিটার, যা একটি ছোট আঙুলের নখের চেয়েও ছোট। জেলিফিশটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৮৩ সালে। তবে এর অসাধারণ ক্ষমতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন প্রায় একশ বছর পর।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যের অভাব, পরিবেশগত প্রতিকূলতা বা শারীরিক চাপের মুখে পড়লেও এই জেলিফিশ মারা যায় না। বরং পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় পৌঁছানোর পর এটি নিজেকে একটি কোষের বলের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়। সেখান থেকে আবার পলিপ-জেলিফিশের জীবনের প্রাথমিক স্তর-গঠিত হয় এবং নতুন করে পুরো জীবনচক্র শুরু হয়।

লিহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল লেডেন বলেন, এই জেলিফিশ নিজে নিজে সুস্থ হওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার একটি অনন্য উদাহরণ। তিনি জানান, প্রাণীটি নিয়ে গবেষণার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই গবেষণা মানুষকে অমর করবে না। বরং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ, টিস্যু ও অঙ্গ মেরামতের নতুন পথ খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অধ্যাপক ক্রিস্টিন শনিটজলার জানান, টারিটোপসিস ডোরনির কোষ অন্য ধরনের কোষে রূপ নিতে পারে। এই বিশেষ ক্ষমতার কারণেই জেলিফিশটি আবার ছোট অবস্থায় ফিরে যেতে সক্ষম হয়।

টারিটোপসিস ডোরনি হাইড্রোজোয়ান পরিবারের সদস্য। দেখতে জেলিফিশের মতো হলেও এদের গঠন কিছুটা ভিন্ন। একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী হলো পর্তুগিজ ম্যান-ও’-ওয়ার। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ক্ষুদ্র জেলিফিশ ভবিষ্যতে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


তথ্যসূত্র: বিডি প্রতিদিন

Leave Your Comments